• ই-পেপার

ভোলায় দুই দিনে কুকুরের কামড়ে আহত ২০, আতঙ্কে স্থানীয়রা

কুমিল্লায় দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
কুমিল্লায় দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
ছবি : কালের কন্ঠ

কুমিল্লা নগরীর যানজট নিরসনে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দুই শতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। এসময় সিটি করপোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া রহমান, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। 

অভিযান সূত্রে জানা যায়,  শুরুতে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় যানবাহন চলাকালে বিঘ্ন ঘটায় সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধভাবে স্থাপিত দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়। পরে নগরীর লির্বাটি মোড়, মনোহরপুর, রাজগঞ্জ এলাকায় অভিযান ভ্রাম্যমান দোকান পাট ও ভ্যান ভেঙে ফেলা হয়।

ফুটপাতে আম বিক্রেতা শাহ জালাল বলেন, আমার মা ধার করে টাকা দিছে আম বিক্রি করতে। আমি একটি ভ্যান ভাড়া করে ফুটপাতে আমি বিক্রি করছিলাম। আমার আমারগুলো মাটিতে ফেলে ভ্যানটা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই কথা বলে তিনি কাঁদতে থাকেন। 

অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম কালের কন্ঠকে বলেন, ফুটপাত ও সড়কে স্বাভাবিকভাবে হাটাচলার কোন অবস্থা নেই, দীর্ঘদিন হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হবে এবং নগরীর পরিবেশও উন্নত হবে।

কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, যেকোন মূল্যে নগরীর যানজট নিরসন করা হবে। আমরা গত দুই মাস ধরে ফুটপাত অবমুক্ত রাখার জন্য প্রচারণা চালিয়েছি। অনেকে কথা শুনেছেন আবার অনেকে শুনেননি। যারা শুনেননি তাদের অবৈধ সব স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

সিটি করপোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া রহমান জানান, কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধভাবে

তিনি আরও জানান, ফুটপাত ও সড়ক দখল করে পুনরায় কেউ ব্যবসা পরিচালনা চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাঞ্ছারামপুরের আইয়ুবপুর-দুর্গাপুর সংযোগ সড়ক

ব্রিজ আছে, রেলিং নেই

ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ব্রিজ আছে, রেলিং নেই
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর-দুর্গাপুর সংযোগ সড়কের ওপর নির্মিত একটি ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে রেলিংবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। ছবি : কালের কণ্ঠ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর-দুর্গাপুর সংযোগ সড়কের ওপর নির্মিত একটি ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে রেলিংবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। দুই পাশের রেলিং ভেঙে পড়ার পর সেগুলোর লোহার রডও চুরি হয়ে গেছে। ফলে ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি ও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় হাজারো বাসিন্দাদের। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী,নারী,শিশু,ব্যবসায়ী  ও বিভিন্ন রকমের যানবাহন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) দূর্গাপুর- আইয়ুবপুর ওপর ‘জোরার সেতু’ নামে ব্রিজটি নির্মাণ করে। আইয়ুবপুর ও বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়নের নয় থেকে দশটি গ্রামের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন।

আইয়ুবপুর গ্রামের ব্যবসায়ী সায়েদুর রহমান বলেন, ‘প্রায় ছয় থেকে সাত বছর আগে ব্রিজটির এক পাশের রেলিং ভেঙে পড়ে। কিছু দিনের মধ্যে অন্য পাশের রেলিংও ধসে যায়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় রেলিংয়ের লোহার রডগুলোও চুরি হয়ে গেছে। ‘আমরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। দ্রুত সংস্কার করা জরুরি’।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘ব্রিজটি এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দিয়ে অন্তত ১০টি এলাকার প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। রেলিং ভেঙে যাওয়ায় সবাইকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার অথবা নতুন করে রেলিং নির্মাণ জরুরি।

দুর্গাপুর গ্রামের ছাত্রী সেলিনা বেগম বলেন, ‘আমরা এই সেতুটি নিয়ে খুব আতঙ্কে আছি।অটোরিকশা নিয়ে আমরা যেতে পারি না। গাড়ি দিয়ে যেতে গেলে ভয় লাগে।’

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর  উপজেলা প্রকৌশলী ফজলে রাব্বি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রেলিংবিহীন ব্রিজটির বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মাদারীপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৪

মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৪
ছবি: কালের কণ্ঠ

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এ সময় অর্ধশতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ এবং কয়েকটি বসতঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহেরান্দি গ্রামের বাবুল শেখ গ্রুপ ও বাচ্চু মোড়ল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ চলাকালে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে অর্ধশতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় চারটি বসতঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়। সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে সংঘর্ষের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে বিভিন্ন বয়সী লোকজনকে টেঁটা, লাঠিসোঁটা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। এছাড়া ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপের দৃশ্যও দেখা যায়। যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শেখ ও মোড়ল বংশের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন, তৃতীয় দিনের মতো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন, তৃতীয় দিনের মতো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

মানিকগঞ্জে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের মাঝে তৃতীয় দিনের মতো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে ঘিওর উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকায় কালীগঙ্গা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধশতাধিক পরিবারের মধ্যে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

বিতরণকৃত খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য।

মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘মানিকগঞ্জ-১ আসনের শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলা পদ্মা, যমুনা ও কালীগঙ্গা নদীবেষ্টিত হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে শত শত পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়। অনেকেই বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবিরের মাধ্যমে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের নজরে আনা হলে প্রতিষ্ঠানটি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করে।

তিনি জানান, এর আগে শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদী এবং তেওতা এলাকার যমুনা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝেও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তালিকা প্রণয়ন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে ২৫ কেজি চাল, দুই লিটার তেল, ডাল, লবণসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

খাদ্য সহায়তা পাওয়া কয়েকজন নারী ও পুরুষ জানান, এই সহায়তা তাদের সংকটময় সময়ে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। তারা সহায়তাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাদের কল্যাণ কামনা করেন।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে ঘিওর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান মানিক, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিব ইকবাল রনি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল, ঘিওর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সাইফ সানোয়ারসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, পর্যায়ক্রমে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত আরো সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে এ সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।