• ই-পেপার

বাগেরহাট

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ক্যাপসুল পাবে ১৪ হাজার শিশু

গবেষণা প্রতিবেদন

সবুজ কমছে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা

নতুন নতুন সমস্যায় বাসিন্দারা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সুপারিশ

কৌশিক দে, খুলনা
সবুজ কমছে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা
সবুজ ও জলাশয় কমছে খুলনায়। মহানগরীর নিরালা দীঘি দিন দিন ছোট হচ্ছে, পারজুড়ে উঠছে নতুন নতুন ইমারত। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

‘গরমে আর কাজ করতে পারছি না। এক ট্রিপ মারলে বসে থাকতে হয়। মনে হচ্ছে, শরীরডা পুইরে দিচ্ছে। গাছপালাও নাই, কোথাও দাঁড়াবো সে অবস্থাও নাই। এবার বুঝি গরমে আর বাঁচা যাবে নানে। সারাদিন খাইটেও সংসারের খরচ উঠানো কষ্টকর।’

খুলনা মহানগরীর তীব্র গরম ও উত্তাপ নিয়ে এভাবেই নিজের কষ্টের কথা বলছিলেন নগরীর বাগমারার বাসিন্দা রিকশাচালক আসলাম হোসেন (৫৫)। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এই শহরে রিকশা চালান তিনি। 

এই কষ্ট শুধু আসলামের নয়, মহানগরী খুলনা ও এর আশপাশের এলাকায় দিন দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। এতে বিপাকে পড়ছে নগরীর বাসিন্দারা। সবশেষ গত ১৫ বছরে এখানকার তাপমাত্রা বেড়েছে চার থেকে পাঁচ  ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গবেষকরা বলছেন, দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে খুলনা শহরের বুক থেকে ক্রমাগত গাছপালা ও সবুজ অঞ্চল হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে দ্রুত তাপমাত্রা বাড়ছে। 

সম্প্রতি 'ডিসকভার সিটিস' জার্নালে প্রকাশিত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের গবেষক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন ও তার দলের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে খুলনার নগর জলবায়ুর এই চিত্র উঠে এসেছে।

খুলনা আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মে মাসে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০২৪ সালের এপ্রিলে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে তাপমাত্রা ছিল ২০১৬ সালের এপ্রিলে ৩৬ দশমিক ৩; ২০১৭ সালের মে মাসে ৩৫ দশমিক ৯; ২০১৮ সালের এপ্রিলে ৩৩ দশমিক ৮; ২০১৯ সালের মে মাসে ৩৬ দশমিক ২; ২০২০ সালের এপ্রিলে ৩৪ দশমিক ৪; ২০২১ সালে ৩৬ দশমিক ৪; ২০২২ সালে ৩৫ দশমিক ২ এবং ২০২৩ সালে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

তবে ২০২৪ সালে তাপমাত্রা এক লাফে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে পৌঁছায়। ২০২৫ সালের মে মাসেও এই তাপমাত্রা প্রায় একই ছিল। সবশেষ আজ বৃহস্পতিবার খুলনার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অপরদিকে, কুয়েট গবেষকদের ‘স্প্যাশিওটেম্পোরাল অ্যানালাইসিস অব ভেজিটেশন ইনফ্লুয়েন্স অন ল্যান্ড সারফেস টেম্পারেচার অ্যান্ড আরবান হিট আইল্যান্ড ইউজিং আ ডিজিটাল টুইন ফ্রেমওয়ার্ক’ শীর্ষক গবেষণায় ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরের উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। 

এতে দেখা গেছে, খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০১০ সালে যেখানে গ্রীষ্মকালের গড় তাপমাত্রা ছিল ৩২.৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩.৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ২০২৪ সালেও এই তীব্র তাপমাত্রার ধারা (৩৩.৮৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অব্যাহত ছিল। অন্যদিকে, গ্রীষ্মে শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।

গবেষক দল খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার সবুজায়ন বা গাছপালা কমার বিষয়ে এই গবেষণায় নরমলাইজড ডিফারেন্স ভেজিটেশন ইনডেক্স (এনডিভিআই) সূচক ব্যবহার করেন। সূচকটির মান সাধারণত শূন্য থেকে ১-এর মধ্যে ধরা হয়েছে, যেখানে মান যত বেশি, গাছপালা তত ঘন ও সুস্থ। 

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের গ্রীষ্মকালে খুলনার এনডিভিআই মান ছিল ০.১২ থেকে ০.৩৩-এর মধ্যে। এটি নির্দেশ করে যে, সে সময় নগরীতে একটি মাঝারি মানের উদ্ভিজ্জ আবরণ বা সবুজ অঞ্চল বিদ্যমান ছিল। ২০১৫ সালে তা সাময়িক উন্নতিতে বেড়ে দাঁড়ায় ০.১৫ থেকে ০.৪১-তে। তবে ২০২০ সালে এনডিভিআই মান কমে দাঁড়ায় ০.১৪ থেকে ০.৩৭-এ এবং ২০২৪ সালে এটি আরো সংকুচিত হয়ে দাঁড়ায় ০.১৫ থেকে ০.৩৬-এর ঘরে।

গবেষণার স্থানিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খুলনা শহরের উত্তর অংশে এখনো তুলনামূলক ঘন সবুজ এলাকা টিকে রয়েছে। কিন্তু শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ অঞ্চলের গাছপালা ও সবুজ আবরণ আশঙ্কাজনক হারে কমছে। মূলত এই সবুজের ঘাটতির কারণেই কেন্দ্র ও দক্ষিণ খুলনার এলাকাগুলো তীব্র তাপ পকেটে বা 'আরবান হিট আইল্যান্ডে' পরিণত হয়েছে।

গবেষণা বিষয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘খুলনায় সবুজায়ন কমছে। নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক বা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া সবুজের দেখা মিলছে না। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে আরো দুই থেকে তিন দশক পর এখানের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। তাই এখনই পরিকল্পিত নগর বনায়ন, জলাশয় ও নদী সংরক্ষণ এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’

কোস্টাল ভয়েস অব বাংলাদেশ (কব) সভাপতি মোস্তফা জামাল পপলু বলেন, ‘আমরা গত কয়েক বছর ধরে উপকূল, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ নিয়ে কাজ করছি। প্রতিনিয়তই এখানকার মানুষেরা নতুন নতুন সমস্যার মুখে পড়ছে। লবণাক্ততা, বেড়িবাঁধ ভাঙন ও জলাবদ্ধতার সঙ্গে উচ্চ তাপমাত্রা নতুন বিপদ ডেকে আনছে। এসব বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’

অবশ্য নগর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)-এর পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা বন ও জলাভূমি রক্ষায় সচেষ্ট। এজন্য মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত স্থানের বাইরে কোনো স্থাপনার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি অনুমতি না নিয়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, খুলনা মহানগরীতে নতুন কোনো পার্ক, খেলার মাঠ বা বনভূমি সৃষ্টি না হলেও কেডিএ-এর রেকর্ড অনুযায়ী বর্তমানে মহানগরীতে ৪২ দশমিক ৫ একর বন ও জলাভূমি রয়েছে। 

নুজসাত আত্মহত্যা মামলা : গ্রেপ্তার প্রাইভেট শিক্ষকের রিমান্ড শুনানি রবিবার

রংপুর অফিস
নুজসাত আত্মহত্যা মামলা : গ্রেপ্তার প্রাইভেট শিক্ষকের রিমান্ড শুনানি রবিবার
ছবি: কালের কণ্ঠ

রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুজসাত জাহানের (১৮) মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রাইভেট শিক্ষক শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনের (২৪) জামিন ও রিমান্ড শুনানি আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে রংপুর সিএমএম আদালতে শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক জুলকার নাইন এই আদেশ দেন। 

আদালত উপ-পুলিশ পরিদর্শক রিয়াজু ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব নির্ধারিত জামিন শুনানি হয়নি, তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদন করায় আগামী রবিবার জামিন এবং রিমান্ড শুনানি হবে।

গ্রেপ্তার শাহরিয়ার আহমেদ সাকিন নগরীর চিকলিভাটা এলাকার ফোরকান আলীর ছেলে। তিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

গত ২৩ জুন নুজসাতের বাবা নজরুল ইসলাম রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় এজাহার দিলে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে সাকিনকে গ্রেপ্তার করে মহানগর ডিবি পুলিশ। 

রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রাথমিক তদন্তে সাকিনের সঙ্গে নুজসাতের ৯ থেকে ১০ মাসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে টেক্সট আদান-প্রদান ও কথোপকথনের কিছু প্রমাণ পুলিশের হাতে এসেছে। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের মধ্যে অনেক কথা হয়েছে।

পুলিশ ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২২ জুন) বিকেলে নুজসাত বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বের হন। বিকেল ৪টা ৫৪ মিনিটে তিনি একা হোটেল নর্থ ভিউ অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করেন এবং লিফটে করে সরাসরি ভবনের ছাদে চলে যান। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টার মতো অবস্থান করেন এবং ফোন ব্যবহার করছিলেন। একপর্যায়ে বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটের দিকে ছাদের রেলিংয়ের ওপর বসার সময় তিনি উল্টো দিকে নিচে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হালুয়াঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ জনের ১২ মাসের কারাদণ্ড

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
হালুয়াঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ জনের ১২ মাসের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ জনের প্রত্যেককে ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নতুন বাসস্ট্যান্ডে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শেরপুর জেলার ডোবারচর গ্রামের নাজিমউদ্দীনের পুত্র মো. সামিদুল ইসলাম (৩০), ফুলবাড়িয়া এলাকার মো. হোসেন আলীর পুত্র আলামিন (৩০), হালুয়াঘাট পৌরসভার উত্তর খয়রাকুড়ি এলাকার ইব্রাহিম হোসেনের পুত্র মো. ইসমাইল হেসেন (৩৬), আকনপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হাসিম খানের পুত্র মো. লিটন মিয়া (৪৪), নেত্রকোনা জেলার মুক্তারপাড়া গ্রামের মো. তারা মিয়ার পুত্র মো.আলামিন মিয়া (৪২), হালুয়াঘাটের সদর ইউনিয়নের শাপলা বাজারের মৃত আবুল কাসেমের পুত্র মো. শাহ আলম (২৮), উত্তর আকনপাড়া গ্রামের মুনসুর আলীর পুত্র মারুফ (২৬), মধ্য আকনপাড়া গ্রামের জাকির হোসেনের পুত্র মো. তিতাস (২৭), ইসলামপুর গ্রামের মো. বাবুল মিয়ার পুত্র মো. উজ্জল মিয়া (৩৫) ও দক্ষিণ মনিকুড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের পুত্র মো. সুরুজ মিয়া (৩২)।

সাজাপ্রাপ্তরা হালুয়াঘাট ও বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে মাদক সেবন ও বিক্রির সময় ১০ জন ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদ। এ সময় থানা পুলিশের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদ বলেন,  ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ সাজা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬ (৫) ধারায় ১ (এক) বছরের জেল দুই শত টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে ৩ (তিন) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

তিনি আরো জানান, উপজেলায় মাদক নির্মূলে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

ভালুকায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা, এলাকায় আতঙ্ক

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ভালুকায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা, এলাকায় আতঙ্ক
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের মাস্টারবাড়ী এলাকায় অবস্থিত এসকিউ কারখানার ঝুট (ওয়েস্টেজ) ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে কয়েক শ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় মিছিল ও মহড়া দেয়। এ সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এসকিউ কারখানার ঝুট সংগ্রহ ও বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরেই সাম্প্রতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের কারণে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এর আগেও একই বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বাসান বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু লোক ও মামলার আসামিরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছিল। তাদের প্রতিহত করতেই মিছিল বের করা হয়।

অন্যদিকে এসকিউ কারখানার ঝুট ব্যবসার কার্যাদেশ দাবিদার উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোহাম্মদ মুর্শেদ আলম দাবি করেন, তিনি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ওই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একটি পক্ষ তার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কারখানা থেকে ঝুট বের করতে পারেননি।

এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাস্টারবাড়ি এলাকায় গোলযোগের কোনো ঘটনার বিষয়ে তার কাছে তথ্য নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ঝুট ব্যবসা নিয়ে এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে মালামাল বের না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু বলেন, ফ্যাসিবাদপন্থী লোকজন একত্রিত হওয়ার খবর পেয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করেছেন। তবে এ ঘটনায় কারখানার ব্যবসা-সংক্রান্ত কোনো বিষয় তার জানা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।