• ই-পেপার

গাইবান্ধায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১

  • রেস্টুরেন্টে বিক্ষুব্ধ জনতার আগুন

কুমিল্লায় বোন-ভাগিনার পিটুনিতে প্রাণ গেল ভাইয়ের

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় বোন-ভাগিনার পিটুনিতে প্রাণ গেল ভাইয়ের
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বাঁশ কাটা নিয়ে বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগিনাদের পিটুনিতে ইব্রাহিম মরণ (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সঙ্গে জড়িত নাছিমা বেগম নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের পৌঁছইর গ্রামের মধ্যমপাড়া হাজী সৈয়দ আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

নিহত ইব্রাহিম উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের পৌঁছইর গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে। আটক নাছিমা বেগম তার আপন বোন।  

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বোন নাছিমা বেগমের সঙ্গে পাশের বাড়ির কোব্বাত মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নাছিমা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার ভাইদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়তেন। বোন ও তার পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ছোট ভাই মহিন নাঙ্গলকোট সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে চলে গেলেও ইব্রাহিম পৈতৃক বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশে একটি বাঁশ কাটেন নাছিমা বেগম। এ নিয়ে ভাই বোনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নাছিমা বেগম, তার স্বামী কোব্বাত আহম্মদ ও ছেলে অলি আহম্মদ মিলে ইব্রাহিমকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এ সময় তলপেট ও অণ্ডকোষে গুরুতর আঘাত পেয়ে ইব্রাহিম ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত কয়েকজনে তাকে উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মেয়ে আফরোজা আক্তার বলেন, ‘ফুফুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা দীর্ঘদিন নানার বাড়িতে ছিলাম। ১ বছর আগে আমরা নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসি। বেশ কিছুদিন ধরেই ফুফু আমাদের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়াসহ মাকে মারধর করে আসছিলেন। আজ সকালে বাঁশ কাটার প্রতিবাদ করায় ফুফু, ফুফা আর ফুপাতো ভাই মিলে আমার বাবাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বোন নাছিমা বেগমকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া

ভাঙা হাত, অসুস্থ শরীর, অনিশ্চিত জীবন : সহায়তার হাত বাড়াল এবিজি ফাউন্ডেশন

নওশাদ জামিল, ঢাকা ও জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী
ভাঙা হাত, অসুস্থ শরীর, অনিশ্চিত জীবন : সহায়তার হাত বাড়াল এবিজি ফাউন্ডেশন
ছবি : কালের কণ্ঠ

লোকগানের এক মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী কিংবদন্তি শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া। তার কণ্ঠের মায়ায় মুগ্ধ দেশ-বিদেশের অসংখ্য শ্রোতা। মানুষের মুখে মুখে ফেরে তার বিভিন্ন জনপ্রিয় গান। সারা জীবন গান গেয়েছেন, কোটি শ্রোতার হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম অর্থকষ্ট, অসুস্থতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার।

কিছুদিন আগে বাথরুমে পা পিছলে পড়ে কাঙালিনী সুফিয়ার বাঁ হাত ভেঙে যায়। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা না নিয়ে প্রতিবেশীদের ঝাড়-ফুঁক ও গাছগাছড়ার চিকিৎসার ওপরই নির্ভর করতে হয় তাকে। তবে অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকালে তাকে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাতে প্লাস্টার করা হয়।

শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়ার মানবেতর জীবনের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পাশে দাঁড়ায় এবিজি ফাউন্ডেশন। শিল্পীর চিকিৎসার জন্য তাকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

৪৫৫২২৩

বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় শিল্পীর বাড়িতে যান এবিজি ফাউন্ডেশনের চিফ কো-অর্ডিনেটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি শিল্পীর খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর বিলপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন কাঙালিনী সুফিয়া। সেখানেই কাটছে তার জীবনের শেষ অধ্যায়। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শিল্পীর শরীরে বাসা বেঁধেছে হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগ। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের প্রয়োজন হলেও অর্থসংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

কালের কণ্ঠের রাজবাড়ী প্রতিনিধি শিল্পীর নিজ বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন। অসুস্থ ও বয়সের ভারে ন্যুব্জ শিল্পী। ঠিকমতো যেন কথা বলতেও কষ্ট হয় তার। তিনি জানান, দুর্ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। রাতে বাথরুমে পড়ে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরলে বাঁ হাতে খুব ব্যথা অনুভব করেন এবং হাত নাড়াতে পারছিলেন না। ওই অবস্থায় রাত কাটান। পরদিন সকালে প্রতিবেশী নারী বিবি হাওয়ার কাছে গেলে তিনি ঝাড়-ফুঁক ও গাছগাছড়ার চিকিৎসা দেন।

যে কণ্ঠে সুরের জাদু, সে কণ্ঠে দুঃখের কথা জানিয়ে কাঙালিনী সুফিয়া বলেন, ‘সেদিন ঘরে কোনো টাকাও ছিল না। পাশে ছিল না আমার মেয়ে পুষ্পও। তাই ঝাড়-ফুঁক আর গাছগাছড়ার চিকিৎসাই ছিল আমার একমাত্র ভরসা।’

প্রতিবেশী বিবি হাওয়া বলেন, ‘ঘটনার পরদিন সকালে কাঙালিনী সুফিয়া আমার কাছে আসেন। আমি তার হাতের অবস্থা দেখে ঝাড়-ফুঁক ও কিছু গাছগাছড়ার চিকিৎসা দিই। আমি সামান্য কবিরাজি জানি, তাই মানবিক কারণেই তাঁকে সাহায্য করেছি।’

কাঙালিনী সুফিয়ার একমাত্র মেয়ে পুষ্প বেগম। গানের অনুষ্ঠানে মা কাঙালিনী সুফিয়া গান করেন আর মেয়ে পুষ্প মায়ের সঙ্গে থেকে মন্দিরা বাজান। পুষ্প জানান, কাজের প্রয়োজনে তিনি ঢাকায় ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরলেও অর্থসংকটের কারণে মাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিতে পারেননি। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার সকালে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার হাতে প্লাস্টার করেন।

পুষ্প আরো জানান, সরকারি উদ্যোগে তার মায়ের নামে ২০ শতাংশ জমি দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে সেখানে দুই কক্ষ ও একটি বাথরুমসহ একটি টিনশেড পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে নির্মাণ করা হয় সুফিয়া একাডেমির জন্য আরেকটি টিনশেড ভবন এবং বার্ষিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি উন্মুক্ত মঞ্চ। তবে এখনো মঞ্চের ছাদ ও বাউন্ডারি নির্মাণ হয়নি।

একসময় সরকারি ভাতা, সাংস্কৃতিক অনুদান এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলত। তবে বয়স ও অসুস্থতার কারণে এখন আর নিয়মিত মঞ্চে উঠতে পারেন না তিনি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও কমে গেছে। ফলে আয়ের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

অভিযোগের সুরে কালের কণ্ঠকে পুষ্প বলেন, ‘সরকারি উদ্যোগে মা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা পেতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেই ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থতার কারণে মা এখন আর নিয়মিত অনুষ্ঠান করতে পারেন না। ফলে আর্থিক সংকট নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মায়ের সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য একজন নার্স বা সহকারী প্রয়োজন। পাশাপাশি তাঁর রচিত প্রায় ৫০০টি গান সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করা জরুরি। কারণ এখনো তিনি নতুন গান রচনা করেন।’

এবিজি ফাউন্ডেশনের সহায়তার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে পুষ্প বলেন, ‘মায়ের অসুস্থতার খবরে এবিজি ফাউন্ডেশন পাশে দাঁড়িয়েছে, এটা আমাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। আশা করছি, এবার মা সঠিক চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ‘কাঙালিনী সুফিয়ার পাশে প্রশাসন সব সময় রয়েছে। আমরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এবিজি ফাউন্ডেশনও তার পাশে দাঁড়িয়েছে জেনে আমরা আনন্দিত।’

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া গ্রামে জেলে পরিবারে কাঙালিনী সুফিয়ার জন্ম। তাঁর প্রকৃত নাম টুনি হালদার। ১৪ বছর বয়সেই গ্রামের অনুষ্ঠানে গান গেয়ে মানুষের নজর কাড়েন। তাঁর গানের গুরু গৌর মহন্ত ও দেবেন খ্যাপা। হালিম বয়াতির কাছেও গান শিখেছিলেন কাঙালিনী সুফিয়া। এ পর্যন্ত ৩০টি জাতীয় ও ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। ‘কোনবা পথে নিতাইগঞ্জ যাই’, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’, ‘নারীর কাছে কেউ যায় না’, ‘আমার ভাটি গাঙের নাইয়া’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় গানের শিল্পী তিনি।

রামগড়ে গোলাগুলি, দীঘিনালায় হামলা : নিহত দুই ইউপিডিএফ সদস্য

খাগড়াছড়ি, রামগড় ও দীঘিনালা প্রতিনিধি
রামগড়ে গোলাগুলি, দীঘিনালায় হামলা : নিহত দুই ইউপিডিএফ সদস্য
সংগৃহীত ছবি

খাগড়াছড়ির রামগড়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত)-এর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় আরো একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। 

বুধবার (২৪ জুন) এসব ঘটনা ঘটে। একই দিনে দীঘিনালায় সশস্ত্র হামলায় ইউপিডিএফের আরো এক সদস্য নিহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে রামগড় উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর সিন্ধুকছড়ি জোনের একটি টহল দল অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে অবস্থানরত সশস্ত্র ব্যক্তিরা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়।

গোলাগুলির একপর্যায়ে রামগড় উপজেলার মাজারটিলা এলাকার বাসিন্দা ববিন ত্রিপুরা (৩২) নিহত হন। আহত হন মংসানু মারমা ওরফে জীবন (২৯)। পরে তাকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফ (প্রসিত) নিহত ববিন ত্রিপুরাকে তাদের কর্মী বলে দাবি করেছে। একই সঙ্গে আহত মংসানু মারমাকে আটকের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম বলেন, দুর্গম এলাকায় ঘটনাটি ঘটায় মরদেহ উদ্ধার ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের মুড়োপাড়া চৌমুহনী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউপিডিএফ (প্রসিত)-এর সদস্য সুজন চাকমা (৪৮) নিহত হন। তিনি কবাখালী ইউনিয়নের তারাবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বিনন্দ মোহন চাকমার ছেলে।

দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, সুজন চাকমা একটি দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিশেষ পোশাক পরা পাঁচ ব্যক্তি সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি দোকানের পেছন দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাকে অনুসরণ করে আরো গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সুজন চাকমার বিরুদ্ধে হত্যাসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।

ইউপিডিএফ (প্রসিত)-এর দীঘিনালা সংগঠক সজীব চাকমা এ ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতি (সন্তু)-কে দায়ী করেছেন। তবে এ বিষয়ে জনসংহতি সমিতির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ওষুধ সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ না করার অপরাধে দুই ফার্মেসিকে জরিমানা

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
ওষুধ সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ না করার অপরাধে দুই ফার্মেসিকে জরিমানা
সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মা ফার্মেসী ও সুধা ফার্মেসী নামে দুই ফার্মেসিকে ওষুধ সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কালারুকা বাজারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোজাহিদুল ইসলাম এবং সুনামগঞ্জ জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক (ড্রাগ সুপার) মিঠুন সাহার যৌথ নেতৃত্বে এ মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, ফিজিশিয়ান স্যাম্পলস মজুদ রাখা, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি এবং ফ্রিজে রাখার মতো তাপ সংবেদনশীল ওষুধ যথানিয়মে সংরক্ষণ না করার অপরাধে এই দুই ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়।

অভিযান প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জের ড্রাগ সুপার মিঠুন সাহা জানান, ইনসুলিন ও ভ্যাকসিনসহ বেশ কিছু তাপ সংবেদনশীল ওষুধ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ফ্রিজে সংরক্ষণ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এই দুই ফার্মেসিতে এসব তাপ সংবেদনশীল ওষুধ যথানিয়মে সংরক্ষণ না করে সাধারণ তাপমাত্রায় ফেলে রাখা হয়েছিল। এতে ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। 

তিনি আরো জানান, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের গুণগত মান বজায় রাখতে আমাদের এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোজাহিদুল ইসলাম জানান, ফার্মেসিগুলোকে শতভাগ নিয়ম মেনে ওষুধ বিক্রি করতে হবে। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এবং ওষুধের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।