নরসিংদীর রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজের ৫ দিন পর গুলিবিদ্ধ বুলবুল মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ জনে দাঁড়িয়েছে ।
উদ্ধারের পর আজ সোমবার লাশটি নিহত বুলবুলের স্বজনরা শনাক্ত করেন। এর আগে রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের নয়রাবাদ এলাকার মেঘনা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত বুলবুল নিলক্ষা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়া ছেলে এবং মোটরসাইকেল মেকানিক ছিলেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত মোস্তাফা আলাল মুন্সি সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির অনুসারীদের মধ্যে গত ১৬ জুন ভোরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পর থেকে বুলবুল নিখোঁজ ছিলেন। পরে এ ঘটনায় তার পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ঘটনার ৫ দিন পর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের নয়রাবাদ মেঘনা নদীতে একটি অজ্ঞাত পরিচয় লাশ ভেসে উঠলে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। উদ্ধারের পর আজ সোমবার লাশটি বুুলবুলে বলে শনাক্ত করেন তার স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এলাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে তারা স্পিডবোট যোগে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে। এ সময় ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিন সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জবাবে নাজিম উদ্দিনের অনুসারীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করেছে বলে জানান স্থানীয়রা। ভোর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ ওই ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নাজিম উদ্দিন সমর্থক অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হন। সংঘর্ষের পর থেকেই আলাল মুন্সির সমর্থক প্রবাস ফেরত কাউছার মিয়া, আব্দুল লতিফ ও মোটরসাইক মেকানিক বুলবুল মিয়া নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার পরদিন (১৭ জুন) দুপুরে নরসিংদীর মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ কাউছার মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের দুইদিন পর (১৮ জুন) সকালে নিলক্ষার গোবিনাথপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে আব্দুল লতিফের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিন মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোস্তাফা মিয়া। সেখানে চিকিসাধীন অবস্থায় রবিবার (২১ জুন) তার মৃত্যু হয়। এদিকে নিখোঁজের ৫ দিন পর গুলিবিদ্ধ বুলবুলের লাশ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এনিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই প্রবাসীসহ ৫ জন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন নাজিম উদ্দিন সমর্থক রাজু মিয়া।
নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের সংঘর্ষের পর এলাকায় বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে জানতে দুই গ্রুপের প্রধান নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর থেকেই তারা দুজন গাঢাকা দিয়েছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, নিখোঁজ বুলবুলের লাশ আড়াইহাজার উপজেলার নৌ পুলিশ উদ্ধার করেছে। উদ্ধারের পর নিহতের পরনের কাপড় দেখে লাশটি বুলবুলের বলে শনাক্ত করে তার স্বজনরা। পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত নিহত অনিক ও কাউছারের পরিবার থানায় মামলা করেছে। অন্য তিনটি হত্যায় এখনো মামলা হয়নি জানান তিনি।





