প্রবেশপত্রে ছবি জালিয়াতি করে প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে কর অঞ্চল নোয়াখালীর নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া চার প্রার্থী চাকরিতে যোগদান করতে এসে ধরা পড়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে, আর একজন পালিয়ে গেছেন।
রবিবার (২১ জুন) রাত ও সোমবার সকালে নোয়াখালীর মাইজদী বাজারস্থ কর অঞ্চল কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কামাল উদ্দিন, অফিস সহায়ক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুন এবং মো. সুজন। অপর অফিস সহায়ক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত রাশেদ উদ্দিন আটক হওয়ার আশঙ্কা টের পেয়ে পালিয়ে যান।
কর বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন অনুষ্ঠিত লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে ১১২ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিতদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হলে রবিবার তারা কার্যালয়ে উপস্থিত হন।
যোগদান করতে আসা কয়েকজনকে দেখে নিয়োগ কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে তাদের কাগজপত্র ও হাতের লেখা যাচাই করে দেখা যায়, তারা নিজেরা পরীক্ষায় অংশ নেননি। বরং অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে প্রক্সি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিষয়টি স্বীকারও করেন।
রবিবার রাতে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ও সিআইডিকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে আটক করে। সোমবার সকালে আরো দুইজন এলে সুজনকে আটক করা হলেও রাশেদ উদ্দিন পালিয়ে যান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানান, ঢাকার একটি জালিয়াত চক্রের সঙ্গে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের চুক্তি হয়েছিল। ওই চক্র সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করে থাকে। চাকরির আবেদনের সময়ই পরীক্ষার্থীর ছবি পরিবর্তন করে জালিয়াতির ব্যবস্থা করা হয়।
নোয়াখালী কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনার এনামুল হোসেন নোমান বলেন,‘নিয়োগপ্রাপ্তদের পরীক্ষা আমরা নিয়েছি, তাই তাদের চিনি। সন্দেহ হওয়ায় হাতের লেখা মিলিয়ে নিশ্চিত হই যে তারা প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়েছে। এরপর তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পলাতক রাশেদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর জানান, আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।





