• ই-পেপার

আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে ইপিজেড শ্রমিকদের মানববন্ধন

আশুলিয়ায় ইয়াবা-গাঁজাসহ ৫ মাদক কারবারি আটক

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
আশুলিয়ায় ইয়াবা-গাঁজাসহ ৫ মাদক কারবারি আটক
সংগৃহীত ছবি

সাভারের আশুলিয়ায় পৃথক তিনটি অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, গাঁজাসহ পাঁচ মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫০ পিস ইয়াবা, ২০০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক বিক্রির ৪৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনা এবং আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পৃথক স্থান থেকে পাঁচজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

প্রথম অভিযানে শনিবার (২০ জুন) রাত ৯টা ৫ মিনিটে আশুলিয়ার নিরিবিলি হাউজিং এলাকার স্বপ্ন বিলাসের সামনে অভিযান চালিয়ে বাদশা মিয়া (৩৭) ও হাসান আলীকে (৪০) আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আশুলিয়ার দুর্গাপুর এলাকার মিনহাজ সরকার মার্কেট ও ওয়াজুদ্দিন সুপার মার্কেটের মধ্যবর্তী স্থানে অভিযান চালিয়ে সোহেল রানা (২৮) ও জুয়েল রানাকে (২৯) আটক করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

অপর এক অভিযানে রবিবার (২১ জুন) রাত ১টার দিকে আশুলিয়ার চারাবাগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিল্লাল শেখকে (৩০) আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৪৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আটকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আশুলিয়া থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

পটিয়ায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, অপরাধ দমনে মাঠে সক্রিয় পুলিশ

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
পটিয়ায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, অপরাধ দমনে মাঠে সক্রিয় পুলিশ
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় গত কয়েক সপ্তাহে সংঘটিত একের পর এক হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, হামলা ও চুরির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও আলোচিত কয়েকটি ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে পটিয়া থানা পুলিশ। বিশেষ করে শিশু জায়ান হত্যা ও পঙ্কজ শীল হত্যা মামলার তদন্তে পুলিশের দ্রুত অগ্রগতি স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হলেও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এখনো উদ্বেগ কাটেনি সাধারণ মানুষের।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল কল রেকর্ড, গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের সমন্বয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। তবে অপরাধ বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধেও আরো কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিশু জায়ান হত্যা; পুরো পটিয়াকে নাড়িয়ে দেওয়া এক নির্মম অধ্যায়: 

পাঁচ বছরের নিষ্পাপ শিশু মো. জায়ান। বাড়ির সামনে খেলতে খেলতেই হঠাৎ নিখোঁজ। পরিবারের সদস্যরা যখন পুকুর, খাল-বিল ও আশপাশের এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন সন্তানের খোঁজে, ঠিক তখনই তাদের ঘরে এসে পৌঁছে এক রহস্যময় মুক্তিপণের চিরকুট। সেখানে দাবি করা হয় তিন লাখ টাকা এবং একটি আনলক মোবাইল ফোন। কিন্তু পরে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে আরও ভয়ংকর সত্য চিরকুট লেখার আগেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল শিশু জায়ানকে।

চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে উঠে এসেছে পূর্বপরিকল্পিত অপহরণ, মুক্তিপণের নাটক এবং হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ভয়ঙ্কর কৌশলের চাঞ্চল্যকর তথ্য। অপহরণকারীরা হাতে লেখা চিরকুটে লিখেছিল- তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে। ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন। যদি কোনো চালাকি করার চেষ্টা করস তাহলে ছেলেকে আর খুঁজলেও পাবি না। পুলিশের কাছে না গেলে ভালো হয়। যদি যাস ছেলের লাশ পাবি। বাইরের মানুষ না জানার মতো, তোর পরিবারের উপর নজর আছে সবসময়। আধা ঘণ্টার ভেতর ৩ লাখ টাকা আর তোর ফ্যামিলির যেকোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটা ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি...। চিঠির শেষ লাইনে লেখা ছিল একটি রহস্যময় বাক্য 'মানুষের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করে দিবি'।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই শেষ বাক্যটিই ছিল বিভ্রান্তি তৈরির অন্যতম কৌশল, যাতে ঘটনাটি ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পূর্ব বিরোধের দিকে মোড় নেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশু জায়ানকে অপহরণের পর হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তরা নিজেদের বাঁচাতে এবং পরিবারকে বিভ্রান্ত করতে মুক্তিপণের নাটক সাজায়। হাতে লেখা চিরকুটটি জায়ানের বাড়ির জানালা দিয়ে ভেতরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর পরিবার ও এলাকাবাসীকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করা হয় যে শিশুটি জীবিত রয়েছে এবং মুক্তিপণ দিলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তখন শিশুটির নিথর দেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত ডোবায়।

এদিকে জায়ানের বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে একটি ভাঙাচোরা পরিত্যক্ত দোকানঘরকে মুক্তিপণের টাকা ও মোবাইল ফোন রাখার স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, ওই স্থানটি বেছে নেওয়া হয়েছিল দূর থেকে নজরদারি এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুবিধার কারণে। তবে শেষ পর্যন্ত টাকা সংগ্রহের আগেই পুলিশের তদন্তে ধরা পড়ে যায় পুরো পরিকল্পনা।

পুলিশের তদন্তে চিরকুটের হাতের লেখা, সন্দেহভাজনদের চলাফেরা, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। চিরকুটে ব্যবহৃত ভাষা, লেখার ধরণ এবং বিভিন্ন আলামত মিলিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে। পরবর্তীতে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদেও বেরিয়ে আসে হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা। শিশু জায়ানের মরদেহ উদ্ধারের পর পুরো পটিয়াজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর এলাকাবাসীর ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে জনপদ।

নিহতের এক স্বজন ও স্থানীযরা বলেন, আমরা ভেবেছিলাম আমাদের সন্তান বেঁচে আছে। টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যারা চিঠি লিখেছে, তারা তো এর আগেই আমার সন্তানকে মেরে ফেলেছে। এর চেয়ে নিষ্ঠুরতা আর কী হতে পারে।

নিহত জায়ানের মামা মো. ওয়াজেদ আলী জিসান বলেন, আমরা তাদের দাবীকৃত তিন লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছিললাম। প্রয়োজনে আরো বেশি টাকা দিতে প্রস্তত ছিলাম। কিন্তু অপহরণকারীদের পক্ষ হতে কোন ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি। আমরা সারাদিন অপেক্ষা করে উপায়ান্ত হয়ে রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিয়েছি।

গত ১৬ জুন পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার পাঁচ বছরের শিশু মোহাম্মদ জায়ান নিখোঁজ হওয়ার পর শুরু হয় পরিবারের আহাজারি ও এলাকাবাসীর উদ্বেগ। প্রথমে অপহরণ, পরে মুক্তিপণ দাবির চিরকুট এবং অবশেষে দুই দিন পর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো পটিয়া জুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই পুলিশ একাধিক টিম গঠন করে। সন্দেহভাজনদের গতিবিধি, হাতের লেখা, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।

একজন তদন্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও চ্যালেঞ্জিং। প্রথমদিকে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাই। সেসব সূত্র ধরেই জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের বিভিন্ন তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে আরো জানা যায়, চিরকুটের লেখার সঙ্গে প্রতিবেশী ও স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত নার্স সাদিয়া সুলতানা নিহার হাতের লেখার মিল পাওয়া যায়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তদন্তে আরো জানা যায়, পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা থেকেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাকে অপহরণ নাটক হিসেবে উপস্থাপন করতে মুক্তিপণের চিঠি রেখে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশু জায়ানের বাবা মো. শাহজাহান বাদি হয়ে পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এ মামলায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সাইফুদ্দীন (৩৯), শাহানুর আক্তার (৩৫) ও সুলতানা আকতার নিহা (১৮)। পরবর্তীতে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ড চাওয়া হবে। 

পঙ্কজ শীল হত্যা:

পটিয়ার আলোচিত পঙ্কজ শীল হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের নয় দিন পর প্রধান অভিযুক্ত আবদুর রহমান ও ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা বোরকা পরিহিত এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হত্যার পর থেকেই আত্মগোপনে থাকা আবদুর রহমান দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থান পরিবর্তন করে সবশেষ কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছিলেন। সেখান থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।

বুধবার গভীর রাতে পটিয়া থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি যৌথ অভিযান টেকনাফে পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রধান আসামি আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ পূর্ব এলাহাবাদ এলাকা থেকে ফাতেমা বেগম (১৯) নামে এক নারীকে আটক করা হয়। 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন,  হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে ওই নারী উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন।

গত ৯ জুন রাত ৯টার দিকে পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা এলাকায় সংঘটিত হয় নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড। দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন মিলন শীলের ছেলে পঙ্কজ শীল (৩২)। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিলক চক্রবর্তী (৩০)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় ঘটনাটি।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় আবদুর রহমান। প্রথমে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়তে থাকলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে। সর্বশেষ টেকনাফ সীমান্তে গিয়ে মানবপাচার চক্রের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

একজন তদন্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আমরা প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছিলাম। আসামি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিল। শেষ পর্যন্ত টেকনাফে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

এদিকে পটিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী তদন্তে সামনে আসতে পারে আরো বিস্ফোরক তথ্য। আর সেই তথ্যই হয়তো উন্মোচন করবে পঙ্কজ শীল হত্যার প্রকৃত রহস্য।

অপরদিকে পুলিশের তদন্তে প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে দুই মামলার তদন্তেই আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার সমন্বয় দেখা গেছে। হাতের লেখার বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, আলামত সংগ্রহ এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে স্বল্প সময়েই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দুই বউয়ের ধন্ধে প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম হত্যা:

সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে সিরাজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী ববি আক্তার (৪৪)-কে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিরাজুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত বক্সু মিয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরেছিলেন তিনি।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সিরাজুল ইসলামের দুটি সংসার রয়েছে। প্রথম স্ত্রী চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন এবং তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী ববি আক্তার গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন, তাদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির মালিকানা ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার বাবার বাড়ির লোকজনের সঙ্গে সিরাজুল ইসলামের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ভাগনে মো. বদিউল আলম অভিযোগ করে বলেন, আমার মামার সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার স্বজনরা তাকে মারধর করেছে। এ মারধরের আঘাতে আমার মামার মৃত্যু হয়েছে। 

এ ঘটনায় নিহত প্রবাসী সিরাজুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীর ছোট ছেলে কবিরুল ইসলাম আকিব বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে নিহত সিরাজুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাম্মৎ মিনহার আকতার ববি (৩৯) তার ভাই শেখ মোস্তান (৩৬) ও ছেলে কাজী মো. শাহাবাজ হোসেন (২১)। এ ঘটনায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পটিয়া থানা পুলিশ। 

দুই বছরে নানা অপরাধ, প্রতিটি ঘটনায় তদন্তের দাবি পুলিশের:

পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত প্রায় দুই বছরে পটিয়ায় জমিজমা বিরোধ, পারিবারিক কলহ, পূর্বশত্রুতা, মাদক ব্যবসা কেন্দ্রিক সংঘর্ষ, ছিনতাই ও চুরির একাধিক ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ঘটনায় আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হলেও কিছু মামলার তদন্ত এখনো চলমান। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত আরও কয়েকটি ঘটনার মধ্যে রয়েছে- ভাটিখাইন এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয়ের মরদেহ উদ্ধার, দক্ষিণ সাইদাইরে যুবককে কুপিয়ে জখম, পোস্ট অফিস সংলগ্ন মাজারের দানবাক্স ভাঙচুর ও চুরি, কুসুমপুরায় প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ড, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ছিনতাইকারীদের হামলায় দুই ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনার প্রত্যেকটিই গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

অপরাধ দমনে মাঠে বিশেষ টহল ও নজরদারি:

পটিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও জনসমাগমস্থলে টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি রাত্রীকালীন মোবাইল প্যাট্রোল বৃদ্ধি, কিশোর গ্যাং ও মাদকসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং সন্দেহভাজনদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের এক সদস্য বলেন, শুধু পুলিশ নয়, সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পারিবারিক বিরোধ, কিশোর অপরাধ ও মাদক সমস্যা অনেক অপরাধের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি মো. মাসুদ আলম বলেন, পটিয়ার দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশের সদস্যরা অত্যন্ত পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং মাঠপর্যায়ে ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে আমরা দ্রুত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, ‘নিষ্পাপ শিশু জায়হান হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। একটি নিষ্পাপ শিশুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। অন্যদিকে পঙ্কজ শীল হত্যাকাণ্ডেও জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে পটিয়া থানা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আলোচিত পঙ্কজ শীল হত্যা ও শিশু জায়ান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য ঘটনাগুলোর তদন্তও গুরুত্বের সঙ্গে চলমান রয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয়দের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য পুলিশকে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অধিকাংশ অপরাধের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, আর্থিক লোভ, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ প্রবণতা এবং সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়গুলো জড়িয়ে রয়েছে। ফলে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পুলিশ প্রশাসনের দাবি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি এমন কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠুক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো জায়ান কিংবা পঙ্কজকে প্রাণ হারাতে না হয়।

স্বস্তি ফিরলেও রয়ে গেছে প্রশ্ন :

দুটি মামলার রহস্য উদঘাটন হলেও স্থানীয়দের মনে এখনও ঘুরপাক খাচ্ছে কিছু প্রশ্ন। একটি শিশুকে কেন্দ্র করে কীভাবে এমন নির্মম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলো। আবার প্রকাশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা কীভাবে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় পালিয়ে বেড়ালো।

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট পটিয়ার সাম্প্রতিক দুই আলোচিত হত্যাকাণ্ডে দ্রুত তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ আবারও প্রমাণ করেছে, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও সমন্বিত অভিযানে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব।৫ বছর বয়সী একটি নিষ্পাপ শিশু, একটি পরিবার, একটি হত্যাকাণ্ড, রাতের আঁধারে আরেকটি রক্তাক্ত হামলা দুই ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল পটিয়া। দ্রুত তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে জনমনে। তবে এসব ঘটনার নেপথ্যের সামাজিক ও পারিবারিক কারণগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে পুরো জনপদ।

পঞ্চগড়ে শিশু হত্যা মামলায় যুবকের ১৭ বছরের কারাদণ্ড

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ে শিশু হত্যা মামলায় যুবকের ১৭ বছরের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

পঞ্চগড়ে পাঁচ বছর বয়সী শিশু মোবাশ্বের হোসেনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সিয়াম আহম্মেদ মিঠুকে (২২) মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে পঞ্চগড়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসাইন মুহম্মদ ফজলুল বারী এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় শিশু অপহরণের দায়ে সিয়ামকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত সিয়াম আহম্মেদ মিঠু পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া এলাকার আশিকুর রহমান স্বপনের ছেলে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৮ মে দেবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আলম হোসেনের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মোবাশ্বের হোসেনকে অপহরণ করে পার্শ্ববর্তী ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের একটি বেতবাগানে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে মিঠু। শিশুটিকে ঘটনার আগে তার সঙ্গে যেতে দেখেছিলেন স্থানীয় কয়েকজন।

পরে শিশুটির বাবা আলম হোসেন দেবীগঞ্জ থানায় প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং ১০ মে সিয়াম আহম্মেদ মিঠুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মিঠুকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নিহত শিশুর বাবা আলম হোসেন বলেন, ‘মিঠু আমাদের প্রতিবেশী ছিল। ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে আমরা যখন দিশেহারা, তখন সেও আমাদের সঙ্গে খোঁজাখুঁজি করেছে, মাইকিং করেছে। কখনো ভাবিনি সেই-ই আমার সন্তানের ঘাতক। দীর্ঘ ছয় বছর পর আদালতের রায়ে আমরা কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পেয়েছি।’

পঞ্চগড়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, জবানবন্দি ও পারিপার্শ্বিক আলামত পর্যালোচনা করে আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ রায়। আমরা আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট।’

দীর্ঘ ছয় বছর পর আলোচিত এ মামলার রায়ে নিহত শিশুর পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করলেও তাদের মতে, হারানো সন্তানকে কোনো রায়ই ফিরিয়ে দিতে পারবে না।

পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত স্পার, ভাঙনের মুখে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধ

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত স্পার, ভাঙনের মুখে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধ
ছবি : কালের কণ্ঠ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষায় নির্মাণ করা দ্বৈত সারির বাঁশের স্পারের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সেতু রক্ষা বাঁধ এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।  

স্থানীয়রা জানান, নদীর ভেতর নির্মিত এই স্পার স্থায়ী হবে না বলে শুরু থেকেই আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা সে আশঙ্কাকে গুরুত্ব দেননি।

গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর পশ্চিম পাশে এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বাঁশের দ্বৈত সারির স্পার নির্মাণ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা ছিল, বর্ষার সময় তিস্তার পানির চাপ কমিয়ে এটি সেতু রক্ষা বাঁধকে সুরক্ষা দেবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোন্নাফ মিয়া বলেন, স্পার নির্মাণের সময় আমরা বলেছিলাম, নদীর মধ্যে এভাবে নির্মাণ করা হলে এটি টিকবে না। পানি আসলেই ভেঙে যাবে। কিন্তু তখন আমাদের কথা শোনা হয়নি। এখন সামান্য পানির চাপেই এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 
মোন্নাফ মিয়া অভিযোগ করেন, এ ধরনের কাজ হলে তা মানুষের আস্থার জায়গা নষ্ট করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, স্পার নির্মাণের পর থেকেই এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ছিল। বর্ষা শুরু হওয়ার পর তাদের সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, আমাদের বলার ভাষা নেই। তিন বছর ধরে এই বাঁধ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় অস্থায়ী নয়, স্থায়ী পরিকল্পনা প্রয়োজন।

উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুল রহমান বলেন, আমরা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। বাঁশের স্পারটি ঢাকার প্রকৌশলীদের নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছিল। বিষয়টি তাদেরও জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এলজিইডির রিভার ট্রেনিং ইঞ্জিনিয়ার কনসালটেন্ট ড. প্রকৌশলী লুৎফর রহমান বলেন, দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধ এলাকায় নির্মিত দ্বৈত সারির বাঁশের স্পারটি ছিল পরীক্ষামূলক ও স্বল্প ব্যয়ের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। নদীতে পানিপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কচুরিপানা এসে স্পারে জমা হয়ে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করায় কিছু অংশ ভেঙে গেছে।

২০১৮ সালে উদ্বোধন হওয়া দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রংপুর ও লালমনিরহাট অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই সেতু বাঁধ রক্ষায় নির্মিত স্পার মাত্র চার মাসের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন।