• ই-পেপার

কসবায় রেলস্টেশনে হামলার অভিযোগে আটক ১

ভোলায় পুকুর থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলায় পুকুর থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

ভোলার চরফ্যাশনে পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় কালু মিয়া নামে ৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

রবিবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় ফরেষ্ট অফিস মসজিদ ঘাটলা সংলগ্ন পুকুর থেকে এই বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত  কালু মিয়া (৮৫) চরফ্যাশন পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ।

চরফ্যাশন উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আ. সালাম জানান, সকাল ৮টার দিকে ফরেষ্টের এক কর্মচারী মসজিদের ঘাটলা দিয়ে মুখ ধোয়ার সময় ভাসমান মরদেহটি দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে ফরেষ্ট অফিস পুকুর থেকে বৃদ্ধের মরদেহটি উদ্ধার করে। 

পরিবারে বরাতে চরফ্যাশন থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) ফরিদ ভূঁইয়া জানান,  ধারণা করা হচ্ছে, ভোরে অথবা এশারের সময় ঘাটলা দিয়ে ওযু বা গোসল করতে গিয়ে পুকুরে পড়ে আর উঠতে পারেনি। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা : ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা : ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
ছবি : কালের কণ্ঠ

দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর বগুড়ার বহুল আলোচিত ৮ বছর বয়সী শিশু রিফাত হোসেন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপরাধ সংঘটনের সময় নাবালক হওয়ায় আরো পাঁচজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস এলাকার আবুল কালাম আজাদ, সাগর, সেলিম ইসলাম, মেহেদী হাসান ও রাজু ইসলাম (পাঁচফুল)। তাদের মধ্যে সাগর ও সেলিম ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।

অপরদিকে, অপরাধ সংঘটনের সময় আইনের দৃষ্টিতে শিশু (নাবালক) হওয়ায় সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বর্তমানে তাদের সবার বয়স প্রায় ২৬ বছর।

নিহত রিফাত হোসেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে। মামলার সব আসামিই নিহতের প্রতিবেশী ও পরিচিত ছিলেন।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই প্রবাসফেরত এনামুল হকের কাছে প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ এক লাখ টাকা ধার চান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে সেদিন বিকেলে এনামুলের বড় ছেলে রিফাতকে অপহরণ করে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ গুম করা হয়।

রিফাত নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তিন দিন পর স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের স্বামীর মাধ্যমে খবর আসে, পাশের পোয়ালগাছা গ্রামের একটি ব্রিজের নিচে একটি শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে। সেখানে গিয়ে রিফাতের মরদেহ শনাক্ত করেন তার স্বজনরা। এ ঘটনার তিন দিন পর ১৮ জুলাই শাজাহানপুর থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা এনামুল হক।

আদালত সূত্র জানায়, মামলায় প্রথমে ১১ জনকে আসামি করা হলেও বিচার চলাকালে আসামি মাসুদ রানা মারা যাওয়ায় তার নাম বাদ দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, সরকারি কৌঁসুলি মো. আলী আসগর জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ও ৮ ধারাসহ হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন। অপরাধ সংঘটনের সময় প্রাপ্তবয়স্ক থাকায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং নাবালক হওয়ায় অপর পাঁচজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

প্রেমিককে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগে প্রেমিকাসহ গ্রেপ্তার ৪

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
প্রেমিককে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগে প্রেমিকাসহ গ্রেপ্তার ৪
নিহত ওয়ালিদ হাসান

নরসিংদীর রায়পুরায় ওয়ালিদ হাসান (১৮) নামের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার পর কাপড়ে মোড়ানো লাশ গুম করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকা ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ কথিত প্রেমিকা প্রাণা আক্তার, তার মা ফরিদা বেগম, ছোট বোন মিন্নি আক্তারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (২০ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় প্রেমিকার বাড়ি থেকে ওয়ালিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ওয়ালিদ হাসান রায়পুরা পৌর এলাকার কান্দাপাড়ার আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি স্কুল থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর তিনি মা রাশেদা বেগম ও এক ভাইয়ের সঙ্গে নানাবাড়ি বাহেরচরে বসবাস করতেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী জাকির মিয়ার মেয়ে প্রাণা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওয়ালিদ। এ ঘটনায় প্রেমিকার বাবা তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। কিছুদিন আগে প্রাণার বিয়ে হয় এক প্রবাসীর সঙ্গে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত থেকে ওয়ালিদ নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

এদিকে শুরু থেকেই প্রাণার বাড়িটি সন্দেহের তালিকায় ছিল। তৃতীয় দিনের মতো শনিবার রাতে ওই বাড়িতে গোপনে নজর রাখছিলেন নিখোঁজ ওয়ালিদের ছোট ভাই রোমানসহ কয়েকজন। রাত ১১টার দিকে তারা দেখেন, বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে কাপড়ে মোড়ানো একটি বস্তু বের করা হচ্ছে। এ সময় প্রাণা, তার বোন মিন্নি ও মা ফরিদা বেগম উপস্থিত ছিলেন। তাদের দেখে তারা বস্তুটি ফেলে পালিয়ে যান। পরে কাপড় সরিয়ে দেখা যায়, সেটি ওয়ালিদ হাসানের মরদেহ।

ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়ালিদের প্রেমিকা প্রাণা, তার মা ও বোনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর থেকে প্রাণার বাবা জাকির মিয়া পলাতক রয়েছেন।

রবিবার দুপুরে এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত লোকজন প্রাণার বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।

প্রাথমিক সুরতহালে নিহত ওয়ালিদের গলায় কালো দাগের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরিবারের ধারণা, গলায় তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়।

নিহতের ভাই রোমান বলেন, ‘রাতে আমরা আমার ভাইকে খুঁজছিলাম। তখন জাকির মিয়ার বাড়ির পেছন থেকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনে সেখানে যাই। গিয়ে দেখি জাকিরের স্ত্রী ফরিদা ও দুই মেয়ে প্রাণা ও মিন্নি আমার ভাইয়ের মরদেহ কাপড়ে পেঁচিয়ে বাইরে বের করছিল। প্রথমে আমাকে ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি। পরে লোকজন এলে তারা পালিয়ে যায়।’

নিহতের ফুফাতো ভাই আব্দুল্লাহ জানান, প্রাণা, তার বোন ও মা মিলে আমার ভাইয়ের লাশ গুম করার চেষ্টা করছিল। হাতেনাতে ধরা পড়েছে তারা। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, প্রেমিকার বাড়ির উঠান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের গলায় কালো দাগ রয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী ওয়ালিদ হাসানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শূন্যরেখায় ৮ দিন ধরে ৫ যুবকের মানবেতর জীবন

রাজিবপুর-রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
শূন্যরেখায় ৮ দিন ধরে ৫ যুবকের মানবেতর জীবন
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় আট দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইনের চেষ্টার শিকার ৫ যুবক। তীব্র রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কোনো দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পেরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

বিজিবি সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন রৌমারীর গয়টাপাড়া ও ভুন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে পৃথক দুটি ঘটনায় নয় বাংলাদেশিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি এবং শূন্যরেখায় আটকা পড়েন।

এর মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য—ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিল্লাল হোসেন, তার স্ত্রী সুমি আক্তার এবং দুই সন্তানকে গত বৃহস্পতিবার মানবিক বিবেচনায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন পাঁচ যুবক। গয়টাপাড়া সীমান্তে রয়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সজিব হোসেন (২৫) ও হিমেল মিয়া (১৮)। অপরদিকে ভুন্দুরচর সীমান্তে অবস্থান করছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জহিরুল, পারভেজ ও নাঈম দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। পরে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হলে গত ১৪ জুন ভোরে তাদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদুল হক ও আলম মিয়া জানান, টানা আট দিন ধরে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পাঁচ যুবক খোলা মাঠে অবস্থান করছেন। মানবিক কারণে স্থানীয়রা তাদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করলেও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, পাঁচ যুবক এখনো নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে।