উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামের দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে জেলার সব নদ-নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু করেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৪ দশমিক ৭০ মিটারে স্থিতিশীল রয়েছে, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯৮ মিটার নিচে। তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানি কিছুটা কমে ২৯ দশমিক ৬৮ মিটারে নেমেছে, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ১৯ মিটার নিচে রয়েছে।
দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বেড়ে ২৮ দশমিক ৬১ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার নিচে। ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েন্টে পানির উচ্চতা যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৮২ মিটার ও ২১ দশমিক ৪৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। উভয় পয়েন্টেই পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাঝারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রবিবার কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ৩০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরীতে ২৫ মিলিমিটার এবং কাউনিয়ায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার প্রায় ৩৫টি স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমিতেও প্রভাব পড়ছে। রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের বুড়িরবাধ এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তার বাদামক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে অপরিপক্ব বাদাম তুলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টায় জেলার নদ-নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কাও রয়েছে।
জেলার নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজরদারির কথা জানিয়েছে।