• ই-পেপার

নড়াইলে

প্রকল্পের অর্থ ছাড়ে ঘুস দাবির অভিযোগ পিআইও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ

অবৈধভাবে তোলা কাদাবালুতে সড়কের কাজ

কাজল কায়েস, লক্ষ্মীপুর
অবৈধভাবে তোলা কাদাবালুতে সড়কের কাজ
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাশের কৃষিজমি থেকে তোলা কাদাবালু তুলে তা দুই সড়ক নির্মাণের কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বটতলী গ্রামের বটতলী মাদরাসা থেকে জমাদার বাড়ি পর্যন্ত ৯৫০ মিটার এবং আবদুল হক বেপারী বাড়ির সামনে দিয়ে দত্তপাড়া থেকে মান্দারী বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। 

জমাদার বাড়ির সড়কের কাজ করছে ঠিকাদার বসু কম্পানি, আর অন্যটি স্থানীয় করিম, রিপনসহ কয়েকজন। দুটি কাজেই পাশের ফসলি জমি ও পুকুর থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে তারা সড়কে কাদাযুক্ত বালু ব্যবহার করছেন। এতে চলাচলের জন্য সড়ক ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছে স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। 

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক অন্য দুই ঠিকাদার বলেন, সড়ক দুটি সম্পূর্ণ নতুন। বক্স কাটিং করে সেখানে বালু ডাম্পিং করতে হয়। তবে বালু হতে হবে ফ্রেশ। কোনোভাবে কাদাযুক্ত বালু ভরাটের সুযোগ নেই। ঠিকাদাররা বেশি লাভের আশায় অসদুপায় অবলম্বন করছেন। 

স্থানীয়দের দাবি, বসু কম্পানি ও করিমসহ কয়েকজন সড়ক দুটির কাজ করছেন। রাস্তা ভরাটের জন্য অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলায় আশপাশের বাড়িঘর হুমকির মুখে রয়েছে। তাদের বালু কিনে এনে সড়ক করার কথা, কিন্তু তা না করে কাদাযুক্ত বালু দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এতে সড়ক টেকসই হবে কিনা- তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সড়কে কাজ করা শ্রমিক আরিফ হোসেন বলেন, জমাদার বাড়ির সড়কটির কাজ পেয়েছেন আবুল বাশার বসু কম্পানি। তার নির্দেশেই পাশের ক্ষেত আর পুকুর থেকে বালু তুলে সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঠিকাদার আবুল বাশার বসু কম্পানি বলেন, অল্প কিছু বালু তুলে  রাস্তায় ফেলা হয়েছে। তবে শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরের পর ড্রেজার মেশিন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকি অংশে ফ্রেশ বালু ফেলা হবে। 

রিপন হাসান বলেন, আব্দুল হক বেপারী বাড়ির রাস্তটি কাঁচা ছিল। একটি মাধ্যমে আমরা চেষ্টা চালিয়ে এ রাস্তা পাকা করতে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ পাই। টেন্ডারের মাধ্যমে স্বপন নামের এক ঠিকাদার কাজটি পেয়েছেন। পরে আমরা কাজটি তার কাছ থেকে কিনে নিই। কাদামাটি দিলে সড়কটি শক্তপোক্ত হবে। এজন্য ড্রেজার মেশিন বসিয়ে আমাদের জমি থেকেই কাদাবালু তুলে রাস্তা ভরাট করছি। বিষয়টি ইঞ্জিনিয়াররাও জানেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনাও দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

তবে এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন ও উপসহকারী প্রকৌশলী কেশব চন্দ্র দের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লায় অনুমোদনহীন ২২ পদের ওষুধ জব্দ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় অনুমোদনহীন ২২ পদের ওষুধ জব্দ

অনুমোদনহীন ওষুধ তৈরি ও বাজারজাতের অভিযোগে কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরীর মর্ডান ড্রাগে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে বেশকিছু ওষুধ, কাঁচামাল ও উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) রাতে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) কুমিল্লার তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জুবায়ের ইসলাম মাত্র দুটি ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি করে আসছিলেন।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খান বলেন, কারখানাটির বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া কোনো অনুমোদিত টেকনিশিয়ান ছাড়াই ওষুধ উৎপাদন করা হচ্ছিল। জব্দ মালামালের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানে উপস্থিত ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, কুমিল্লার অফিস সহকারী শাহ আলম সরকার বলেন, জব্দ করা ২২ ধরনের ওষুধের কোনো অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। কয়েকটি বিদেশি ব্র্যান্ডের ওষুধও এখানে তৈরি করা হতো। বিশেষ করে শিশুদের জন্য উৎপাদিত কিছু ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

কারখানার মালিক জুবায়ের ইসলাম অভিযোগ আংশিক স্বীকার করে বলেন, কয়েকটি ওষুধ তৈরির অনুমোদন রয়েছে, তবে কিছু ওষুধের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান হাসান মাহমুদ, এনএসআইয়ের কর্মকর্তারা এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে আটকের ৫ ঘণ্টা পর ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
ফরিদপুরে আটকের ৫ ঘণ্টা পর ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা থেকে ডিবি পুলিশের হাতে আটক হাওয়ার পাঁচ ঘণ্টা পর নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। 

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানের বরাত দিয়ে আগামীর সময় এ খবর প্রকাশ করেছে। 

নিহত প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত এস্কেন্দার হায়দারের ছেলে।

প্রান্তের চাচা ও সাবেক কাউন্সিলর মির্জা আবু জাফর জানিয়েছেন, রবিবার গভীর রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাদের বাড়ি থেকে প্রান্তকে আটক করে। পরে সকালে তারা জানতে পারেন, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি অসুস্থ থাকায় বাড়িতেই রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ২টার দিকে গোন্দারদিয়া এলাকায় প্রান্তের বসতবাড়ির উত্তর পাশে ফাঁকা স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুরে এনে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখার হাজতে রাখা হয়।

পুলিশের দাবি, হাজতে থাকা অবস্থায় প্রান্ত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, মধুখালী এলাকা থেকে গাঁজাসহ আটক এক আসামি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি মারা যান।

তিনি আরো জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদকসহ আটকের পর ওই আসামি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানেই তিনি মারা যান। মরদেহটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

পুলিশ সুপারের দাবি, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ব্রেন স্ট্রোকের কারণে প্রান্তর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তার ওপর কোনো ধরনের শারীরিক আঘাত বা নির্যাতন করা হয়নি। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নীলফামারীতে কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া কমানোর দাবিতে মানববন্ধন

নীলফামারী সংবাদদাতা
নীলফামারীতে কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া কমানোর দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: কালের কণ্ঠ

নীলফামারীতে কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কেজিপ্রতি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মোড়ে আলুর ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বডির উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সদর উপজেলা সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রোকুনুজ্জামান রিপন।

বক্তারা বলেন, দেশে চলতি বছরও আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে উৎপাদিত আলুর ন্যায্যমূল্য থেকে কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তারা অভিযোগ করেন, কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সারা দেশে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কেজিপ্রতি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এ সময় সংগঠনের সদস্য ও আলুচাষিরা উপস্থিত ছিলেন।