রংপুর মহানগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নির্মূল, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে হত্যা মামলার আসামি, মাদক কারবারি, মাদকসেবী, পরোয়ানাভুক্তসহ বিভিন্ন মামলার আসামিসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। এ সময় অভিযানে ইয়াবাও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, মাদক ও অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং জননিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে মহানগর পুলিশের সব ইউনিটের সমন্বয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে হত্যা মামলার আসামি, মাদকসেবী, মাদক মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে নগরীর ইসলামবাগ এলাকার ফজলু মিয়ার ছেলে আসিফ মিয়া(২৪), গণেশপুর ক্লাবমোড় এলাকার মোন্নাফ(২৮), বনানীপাড়া এলাকার লিটন মিয়া (২৭) এবং লালবাগ কেডিসি এলাকার স্বপন মিয়া (৫৮) গ্রেপ্তার হন।
এছাড়া কোতোয়ালি থানা পুলিশের অভিযানে মিজানুর রহমান মনু (৩৬), দেলোয়ার হোসেন হাসান (৫৫),পরশুরাম থানা পুলিশের অভিযানে ছাদেক মিয়া (৪৫), মোখছেদুর রহমান (৭০), শাহিনুজ্জামান সাজু (৪৪), শামীম মিয়া, লিটন মিয়া (৩৪) ও মোন্নাফকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
হারাগাছ থানা পুলিশের অভিযানে সাইফুল ইসলাম (৩০), হিমেল (২৮), মো. আব্দুস সাত্তার মিয়া এবং মো. রবিউল ইসলাম আটক হন।
মাহিগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে শামীম আরফান বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে তাজহাট থানা পুলিশের অভিযানে লিটন মিয়া (৩৬) ও রনি মিয়া (২০) গ্রেপ্তার হন।
পুলিশ সূত্রে আরো জানা গেছে, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধপ্রবণতা রোধ, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ও অপরাধবিরোধী কার্যক্রম আরো জোরদার করায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মহানগর এলাকায় অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার সব আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা কিংবা নন-এফআইআর প্রসিকিউশন গ্রহণপূর্বক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও মহানগর পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে। মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স।
পুলিশের এ অভিযানকে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।







