শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কালজয়ী আদর্শ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম কোতোয়ালীস্থ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ভবনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত খতমে কোরআন, আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতির ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের অন্ধকার রাতে দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন চরম দিকনির্দেশনাহীনতায় ভুগছিল, তখন জিয়াউর রহমান বীরদর্পে জাতিকে মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং সম্মুখসমরে থেকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে তিনি ব্যারাকে ফিরে গিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে তিনি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে এক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেন।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, শহীদ জিয়ার স্বপ্ন ছিল একটি আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ এবং বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী শক্তি আজ ঐক্যবদ্ধ।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু মঞ্চের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কল্যাণে কাজ করার মাধ্যমেই শহীদ জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘চট্টগ্রামের বীর জনতা ক্ষমতার অপব্যবহার বা ভোগের জন্য আমাদের নির্বাচিত করেনি, বরং তাদের অধিকার ও সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতেই এই পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে।’
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। সব জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চউক, ওয়াসা-সহ সকল সেবা সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমন্বিত, পরিকল্পিত, আধুনিক ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন ও উন্নত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা হবে।




