সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ডিপজল আহমদ (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজের তিনদিন পরেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এ ঘটনায় পতাকা বৈঠক করেছে। তবে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকেও নিখোঁজ যুবকের বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি বিএসএফ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এর আগে, সোমবার (১৫ জুন) রাতে জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রামের বাসিন্দা ডিপজল আহমদসহ কয়েকজন যুবক ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে অন্যরা বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও ডিপজল নিখোঁজ হন।
স্থানীয়দের দাবি, বিএসএফের গুলিতে ডিপজল নিহত হয়েছেন। তবে বিএসএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করছে। তারা জানান, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভারতের এক নাগরিককে সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। পরে বুধবার (১৭ জুন) বিজিবির মাধ্যমে তাকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার গণমাধ্যমকে জানান, ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিএসএফের সঙ্গে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকটি আড়াই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, ‘বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, সীমান্তের ওপারে কোনো গুলির ঘটনা কিংবা ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। ডিপজলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিএসএফও বিষয়টি অনুসন্ধান করবে।’
বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী (টিপু) বলেন, ‘বিজিবির সঙ্গে বৈঠকের পরও বিএসএফ কোনো তথ্য দেয়নি। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে আমাদের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আগামীকাল স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।’
জকিগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘স্থানীয়দের কাছ থেকে এক বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যার দাবির কথা শোনা গেলেও এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।’




