• ই-পেপার

নারায়ণগঞ্জ

২০০ বছরের শ্মশান রক্ষা মামলায় নতুন মোড়

  • এক টাকায় শতকোটির সম্পত্তি বন্দোবস্ত

ফেনীতে আ. লীগের মিছিলের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৬

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
ফেনীতে আ. লীগের মিছিলের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৬
সংগৃহীত ছবি

ফেনী শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলার পর ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোনেম শাহরিয়ার চৌধুরী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) সকালে ফেনী পৌরসভার রেলস্টেশন সড়ক এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমদ চৌধুরী নাসিমের ছবিসংবলিত ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন। এ সময় তারা দলীয় বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংগঠনের কার্যক্রম সচল রাখার পক্ষে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিলের জন্য একত্রিত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সেখান থেকে সরে যান। পরে স্থানীয়দের তথ্য, গোপন সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় কালিদহ ইউনিয়নের আলোকদিয়া এলাকার একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো কয়েকজনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে মিছিলের জন্য সমবেত হন। তাদের ব্যবহৃত কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজীম বলেন, আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় এজাহারনামীয় ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কুড়িগ্রামের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কু‌ড়িগ্রাম
প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কুড়িগ্রামের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে রেললাইনের ওপর উল্টে পড়া বালুভর্তি ট্রাক অপসারণের পর প্রায় ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক হয়েছে ট্রেন চলাচল। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে রেললাইন থেকে ট্রাক ও বালু সরিয়ে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু করে কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মোশারফ হোসেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে রাজারহাট উপজেলার পেট্রল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় একটি বালুভর্তি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে। এতে কুড়িগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে ঢাকাগামী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রাকটি রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ার পর পুরো রেলপথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কুড়িগ্রাম থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। অনেক যাত্রীকে বাস, সিএনজি ও অটোরিকশাযোগে তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। এতে অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হয়েছে অনেককে।

দীর্ঘ সময় উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে ট্রাক ও বালু অপসারণের পর সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে রেললাইন সম্পূর্ণ সচল করা সম্ভব হয়। এরপর রমনা লোকাল ট্রেন তিস্তার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

সহকারী স্টেশন মাস্টার মোশারফ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ট্রাক ও বালু সরিয়ে রেললাইন সচল করা হয়েছে। বর্তমানে কুড়িগ্রামের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

কক্সবাজারে অস্ত্র, ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ ২ যুবক গ্রেপ্তার

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজারে অস্ত্র, ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ ২ যুবক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজার শহরে অভিযান চালিয়ে দুটি দেশীয় বন্দুক, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, নগদ টাকা এবং নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আলীর জাহাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি আভিযানিক দল আলীর জাহাল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আমির ফায়সাল আক্তারের (৩৮) বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সেখানে অবস্থানরত মো. জাহিদ হোসেনকে (২০) আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাদের হেফাজত থেকে দুটি দেশীয় বন্দুক, তিনটি ধারালো ছুরি, এক হাজার ৩০টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির ২৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে নম্বরবিহীন দুটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

অধ্যক্ষের স্ত্রী নিরাপত্তাকর্মী, শ্যালিকা আয়া; কাজে না এসেও নিচ্ছেন বেতন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
অধ্যক্ষের স্ত্রী নিরাপত্তাকর্মী, শ্যালিকা আয়া; কাজে না এসেও নিচ্ছেন বেতন
দেউলডাংরা নুরুল উলুম দাখিল মাদরাসা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের দেউলডাংরা নুরুল উলুম দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষের স্ত্রী ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন না করেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অধ্যক্ষের স্ত্রী সামছুন্নাহার মাদরাসাটির নিরাপত্তাকর্মী (সিকিউরিটি গার্ড) এবং শ্যালিকা ছদরুন্নাহার আয়া পদে কর্মরত থাকলেও তাঁদের হয়ে অন্য একজন নারী কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৩ সালে কাজী নুরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৭ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৯ জন। এর মধ্যে অধ্যক্ষ মো. এনামুল হকের স্ত্রী ও শ্যালিকাও কর্মচারী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত।

সম্প্রতি সরেজমিন মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পুরনো প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত অবস্থা বেশ নাজুক। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরনো তিনটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য স্থায়ী কোনো শ্রেণিকক্ষ নেই। পুকুরপাড়ে অস্থায়ীভাবে টিনের চালা ঘর তৈরি করা হয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বসার জন্য রয়েছে একটি টিনের কক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মাদরাসায় অবস্থানকালে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষক বারান্দা ও টিনের ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল খুবই কম। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, গত ১৫ জুন প্রতিষ্ঠান খোলার পরও নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত থাকলেও নিরাপত্তাকর্মী সামছুন্নাহার ও আয়া ছদরুন্নাহার কর্মস্থলে ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিবর্তে শাহানা আক্তার নামে এক নারী নিয়মিত কাজ করছেন এবং তাকে মাদরাসার তহবিল থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদরাসার এক শিক্ষক বলেন, ‘অধ্যক্ষের স্ত্রী মাঝেমধ্যে মাদরাসায় এলেও তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় না। তিনি সাধারণত অফিস কক্ষে বসে থাকেন। নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করতে কখনো দেখিনি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মো. এনামুল হক বলেন, ‘আমার শ্বশুর দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি তাঁর মেয়েদের এখানে চাকরি দিয়েছেন। এটি তাঁর বিষয়।’

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘কিভাবে নিয়োগ হয়েছে, তা আমার জানা নেই। তবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করানো নিয়মসংগত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’