• ই-পেপার

ধানক্ষেতে মিলল নিখোঁজ নৈশপ্রহরীর মরদেহ

শিশু নিসা হত্যার দ্রুত বিচার হবে, আইনমন্ত্রীর আশ্বাসের কথা জানালেন প্রিন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিশু নিসা হত্যার দ্রুত বিচার হবে, আইনমন্ত্রীর আশ্বাসের কথা জানালেন প্রিন্স
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ৪ বছর বয়সী শিশু নিসা মনির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টেংগটি গ্রামে নিহত শিশুটির বাড়িতে যান সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। সেখানে তিনি শোকসন্তপ্ত বাবা-মাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নিজের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা দেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

এ সময় প্রিন্স বলেন, ‘নিসার ওপর সংঘটিত এই নির্মম, বর্বর ও অমানবিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রতি এমন পাশবিকতা গোটা সমাজকে লজ্জিত করেছে। আমরা আশা করি তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং প্রকৃত অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে।’

দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে তিনি মঙ্গলবার আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আইনমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছেন, ঢাকার রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারের মতোই নিসা হত্যা মামলারও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রয়োজনীয় তদারকির দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।’

প্রিন্স বলেন, ‘কোনো অপরাধীই যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এই দুঃসময়ে সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে হবে।’

এ সময় ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্যসচিব আনিসুর রহমান মানিক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, গোয়াতলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম টোটনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইনে পাখি বিক্রি

টঙ্গীতে ৯৯৯-এর ফোনকলে ১৬ পাখি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
টঙ্গীতে ৯৯৯-এর ফোনকলে ১৬ পাখি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে অনলাইন চক্রের কাছ থেকে ১৫টি ময়না ও ১টি টিয়াসহ মোট ১৬টি বন্য পাখি উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের এক কর্মকর্তার ফোনকলের সূত্র ধরে পুলিশ এ অভিযান চালায়। এ সময় অবৈধভাবে পাখি সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে টঙ্গী পূর্ব থানার আরিচপুর রোডের ব্রাইট মডেল স্কুল সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে পাখিগুলো উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. ইব্রাহীম (৩৬) ও মাহিদুল ইসলাম (১৮)।

দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজের মাধ্যমে নিষিদ্ধ বন্য পাখি বিক্রি করে আসছিল। মঙ্গলবার বিকেলে বন্যপ্রাণী অধিদপ্তরের একজন পরিদর্শক নিশ্চিত হন যে, টঙ্গীর আরিচপুর রোডের একটি বাড়িতে বিক্রির জন্য প্রচুর পাখি জড়ো করা হয়েছে। পরে অভিযানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশি সহায়তা চান।

৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল শাহিদা কলটি গ্রহণ করেন এবং ডিসপাচার এসআই আমানত হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি টঙ্গী পূর্ব থানাকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে খাঁচাবন্দি অবস্থায় ১৫টি ময়না এবং ১টি টিয়া পাখি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে পাখি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে হাতেনাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পাখিগুলো বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে এবং পরবর্তীতে এগুলোকে অবমুক্ত করা হবে। 

টেকনাফে দুই নাইট গার্ড অপহরণ, বেধড়ক মারধরের অভিযোগ

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টেকনাফে দুই নাইট গার্ড অপহরণ, বেধড়ক মারধরের অভিযোগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী এলাকায় দুই নাইট গার্ডকে অপহরণ করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) ভোরে রঙ্গীখালী এলাকার একটি মসজিদের সামনে থেকে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। আহতরা হলেন রঙ্গীখালী এলাকার বাসিন্দা মাঈনউদ্দিন ও হেলাল উদ্দিন।

ভুক্তভোগী মাঈনউদ্দিন জানান, তারা রঙ্গীখালী বাজারের একটি টমটম গ্যারেজে রাতের পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তির সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড তাদের নজরে আসে। বিষয়টি দেখে ফেলায় অস্ত্রের মুখে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের একটি নির্জন স্থানে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বাধা হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে ওই দুজনকে ভয়ভীতি দেখাতে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়েছে। হামলাকারীরা বিভিন্ন মামলার আসামি এবং ভুক্তভোগীদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাঈদ চৌধুরী জানান, বুধবার দুপুরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাঈনউদ্দিনকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কালশিটের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে তাকে মারধর করা হয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অপর ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন বলেন, “অস্ত্রধারী কয়েকজন লোক আমাদের তুলে নিয়ে যায়। মাঈনউদ্দিনকে লোহার রড দিয়ে বেশি মারধর করা হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর।”

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “হ্নীলার রঙ্গীখালী এলাকায় দুজনকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনা শুনেছি। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পটিয়ায় ৫ বছরের শিশু নিখোঁজ, ঘরেই মিলল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
পটিয়ায় ৫ বছরের শিশু নিখোঁজ, ঘরেই মিলল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভা এলাকায় স্থানীয় এক গ্যারেজ মালিকের পাঁচ বছর বয়সী শিশু সন্তান নিখোঁজের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের ঘরের বিছানায় পাওয়া যায় তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির একটি হাতের লেখা চিঠি। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিখোঁজ শিশুর নাম মো. জায়হান (৫)। সে স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলছিল জায়হান। দুপুর ১২টার পর তাকে আর দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাড়ির সামনে পুকুরেও তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও শিশুটির সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে পরিবার পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এদিকে একমাত্র সন্তান নিখোঁজ হওয়ার খবরে ভেঙে পড়েন বাবা-মা। প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে ভিড় জমাতে থাকেন।

পরিবারের দাবি, বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে এই ভিড়ের সুযোগে অজ্ঞাত পরিচয়ের কেউ ঘরের সামনের কক্ষে একটি হাতের লেখা চিঠি রেখে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিছানার ওপর চিঠিটি দেখতে পান। চিঠিতে শিশুর বাবা শাহজাহানকে সম্বোধন করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং পুলিশকে বিষয়টি না জানানোর হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

চিঠির একটি অংশে লেখা ছিল, ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে, ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন। যদি কোনো চালাকি করার চেষ্টা করস তাহলে ছেলেকে আর খুঁজলেও পাবি না, পুলিশের কাছে না গেলে ভালো হয়। যদি যাস ছেলের লাশ পাবি। বাইরের মানুষ না জানার মতো, তোর পরিবারের ওপর নজর আছে সবসময়। আধা ঘণ্টার ভেতর ৩ লাখ টাকা আর তোর ফ্যামিলির যেকোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটা ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি। রাখার পর তুই সহ তোর ফ্যামিলির সবাই বাসার ভেতর ঢুকে যাবি। ঢুকে গিয়ে দরজা-জানালা সব বন্ধ করে দিবি।’

চিরকুটে আরো লেখা আছে, ‘যদি কোনো চালাকি করস তাহলে আমার কোনো ক্ষতি হবে না। তোর ছেলেকে জীবনে খুঁজে পাবি না। মোবাইলটা তোর ছেলেকে তোকে দেখানোর জন্য... আর মানুষের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করে দিবি।’

এ ছাড়া চিঠির শেষ অংশে রহস্যজনকভাবে লেখা হয়, ‘মানুষের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করে দিবি।’

নিখোঁজ শিশুর বাবা শাহজাহান জানান, আমার একমাত্র ছেলেকে কারা নিয়ে গেছে জানি না। আমি শুধু আমার সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই। চিঠিতে যেভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে তাতে আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, মুক্তিপণের চিঠিটি জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, মুক্তিপণ দাবি এবং চিঠির ভাষা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। গতকাল রাত থেকে এখনো পর্যন্ত থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।