• ই-পেপার

নবীনগরে ফের গোলাগুলি!

নারীসহ এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ ও নিখোঁজ হওয়ার গুঞ্জন

ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলল চার যুবক

অনলাইন ডেস্ক
ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলল চার যুবক

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর কংস নদ থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন ও হত্যার আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছর বয়সী শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে কিছু দূরে কংস নদে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করে।

প্রাথমিকভাবে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন– মারুফ মিয়া (১৯), আরিফ মিয়া (১৯) এবং রাকিব মিয়া (২১)। তাদের বাড়ি ধোবাউড়া উপজেলায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে কৌশলে নদীর পাড়ের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার ওপর নির্যাতন চালানোর পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত আরো একজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হবিগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক
হবিগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২

হবিগঞ্জের বাহুবলে দুই গ্রামবাসীর বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ও সন্ধ্যায় দুই দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন— আদিত্যপুর গ্রামের সেলু মিয়া (৫৩) ও হেলাল মিয়া (৩৭)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুই গ্রামের মধ্যবর্তী একটি কথিত কবরস্থানের পাশের চলাচলের রাস্তা নিয়ে আদিত্যপুরের মোসাহিদ মেম্বার ও আরিচাপুরের নাসির, আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার দুপুর ১টার দিকে দুই গ্রামের ২০০ থেকে ২৫০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, টেঁটা, রামদা, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় ডুবাঐ বাজারে দুই পক্ষ ফের সংঘর্ষে জড়ায়। একপর্যায়ে সেলু মিয়া ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় কদর আলী (৭০), লুৎফুর রহমান (৩০), আতাউর রহমান (২৫), কুহিনুর (৪১), জাহিদ মিয়া (৫৫), রিমন (১৮), অলফুজ মিয়া (৫০), খলিল মিয়া (৩০), সুহেল মিয়া (৩০), হাবিব মিয়া (২৫), হেলাল মিয়া (৩৭), সিমন (১৮) ও হান্নানসহ (৫০) অন্তত ৪০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে রাত ১১টার দিকে গুরুতর আহত হেলাল মিয়া সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। 

বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুরের সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সন্ধ্যার পর সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের থানায় আসার কথা ছিল। তবে পরবর্তীতে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতলেই বিয়ে, ব্যতিক্রমী ঘোষণা এক সমর্থকের

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতলেই বিয়ে, ব্যতিক্রমী ঘোষণা এক সমর্থকের
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই বাংলাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উন্মাদনা। প্রিয় দলের পতাকা, জার্সি, রঙিন সাজসজ্জা আর নানা আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের সমর্থনের জানান দেন ভক্তরা। তবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের এক ব্রাজিল সমর্থক এবার ব্যতিক্রমী এক ঘোষণার মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্রাজিল বিশ্বকাপ জয়ের আগে তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন না।

মিরসরাই উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ সালমান ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিল ফুটবল দলের একনিষ্ঠ সমর্থক। দলের জয়-পরাজয়কে নিজের আবেগের অংশ হিসেবে দেখেন তিনি। সেই ভালোবাসা থেকেই নিয়েছেন এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত।

সালমান বলেন, ব্রাজিল শুধু একটি ফুটবল দল নয়, এটি আমার আবেগের নাম। ছোটবেলা থেকে তাদের খেলা দেখে বড় হয়েছি। ২০০২ সালের পর থেকে আমরা শুধু অপেক্ষা করেই যাচ্ছি। প্রতিবারই স্বপ্ন জাগে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ব্রাজিল আবার বিশ্বকাপ জিততে না পারা পর্যন্ত আমি বিয়ে করব না।

তিনি আরো বলেন, বিয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কিন্তু প্রিয় দলের জন্য এটুকু ত্যাগ আমি করতেই পারি। যেদিন ব্রাজিল আবার বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি হাতে তুলবে, সেদিনই বিয়ের বিষয়ে ভাবব।

সালমানের এমন ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় চায়ের আড্ডায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ বিষয়টিকে নিছক মজা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকের মতে, এটি একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থকের গভীর আবেগের বহিঃপ্রকাশ।

স্থানীয় ব্রাজিল সমর্থক আরাফাত হোসেন বলেন, ফুটবল নিয়ে মানুষের আবেগ থাকতেই পারে। সালমানের সিদ্ধান্ত শুনে প্রথমে হাসি পেলেও পরে বুঝেছি, সে সত্যিই ব্রাজিলকে কতটা ভালোবাসে। আশা করি, তার স্বপ্নও পূরণ হবে, ব্রাজিলও আবার বিশ্বকাপ জিতবে।

ব্যতিক্রমী এই ঘোষণার কারণে এখন এলাকায় ‘ব্রাজিল জিতলেই বিয়ে’— এমন কথাই ঘুরে ফিরছে মানুষের মুখে মুখে। অনেকেই বিষয়টিকে মজার ছলে নিলেও, সালমানের কাছে এটি তার প্রিয় দলের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা ও অটুট বিশ্বাসের প্রতীক।

কক্সবাজার সৈকতে ঘোড়ার কামড়ে শিশু আহত, হাসপাতালে ভর্তি

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজার সৈকতে ঘোড়ার কামড়ে শিশু আহত, হাসপাতালে ভর্তি

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ঘোড়ার কামড়ে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আহত শিশুটি কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতি পাড়া এলাকার বাসিন্দা। সৈকতে অবস্থানকালে একটি ঘোড়া তাকে কামড় দিলে সে গুরুতর আহত হয়।

ঘটনার পর দায়িত্বরত লাইফ গার্ড সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করেন। পরে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে ঘোড়ার মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ঘটনার সময় ঘোড়াটির মূল মালিক কলাতলী এলাকার মহিন ও তার ছেলে রায়হানকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আহত শিশুটিকে বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সৈকতে পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার স্বার্থে ঘোড়া পরিচালনায় আরো কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।