প্রায় ৯ মাস আগে সৌদি আরবে গেছেন সোহাগ মিয়া ও রহমতউল্লাহ মনির। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার এ দুই যুবক সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।
সোহাগ মিয়ার বাড়ি উপজেলার নওপাড়া গ্রামে। আর রহমতউল্লাহ মনিরের বাড়ি একই উপজেলার দক্ষিণ সাটিহারী গ্রামে। সৌদিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।
দেশটিতে যাওয়ার পরই আকামা (সৌদিতে বসবাসের অনুমতিপত্র) ও নির্দিষ্ট কাজের আশ্বাস দিয়ে এ দুই যুবককে সৌদি আববে নেওয়ার পর কোনোটাই দেওয়া হয়নি। এতে প্রবাসে তারা মানবেতর জীবনযাবন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানান সোহাগ ও রহম প্রবাসী। তারা জানান, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বটতলা কুল্লাপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম সৌদি আরবে থাকেন। ৯ মাস আগে তার মাধ্যমে সেদেশে যান এ দুইজন।
ভুক্তভোগীরা জানান, আশরাফুল সৌদি আরবে থেকেই তার বাবা বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে দেশ থেকে সে দেশে লোক নেওয়ার কাজ করেন। ৯ মাস আগে তার মাধ্যমে সৌদি আরবে যান সোহাগ ও মনিরসহ কয়েকজন। এ জন্য বিল্লাল হোসনের কাছে চার লাখ ৮০ হাজার টাকা করে জমা দেন তারা। কথা ছিল সৌদি আরবে যাওয়ার পরই তাদের কাজে লাগানো হবে এবং আকামা দেওয়া হবে। সোহাগকে গাড়ি ধোয়ার কাজ এবং মনিরকে ফুড ডেলিভারির (মোটরসাইকেলে করে ঘুরে খাবার সরবরাহ) কাজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন আশরাফুল।
কিন্তু দেশটিতে যাওয়ার দুই মাস পার হলেও আশরাফুল তাদের কোনো কাজ দেননি। পরে তারা নিজেরাই যোগাযোগ করে কার্পেট ধোয়ার কাজ যোগাড় করেন। তবে ৯ মাসেও আকামা না দেওয়ায় তারা সেদেশে গোপনে বসবাস ও কাজ করে যাচ্ছেন। মোটা অংকের টাকা খরচ করে আশরাফুলের মাধ্যমে সৌদিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন এ দুই যুবক।
সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আকামা না থাকায় আমরা ভালো কাজ পাই না। কাজের সঠিক মূল্য পাই না। আমরা ঘর থেকে বের হয়ে কোথাও যেতে পারি না পুলিশের ভয়ে। বাজার করতে যেতে পারি না; এমনকি অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছেও যেতে পারি না।’ তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী আকামা না থাকলে গ্রেপ্তার করে এক মাসের জেল দেয় পুলিশ। এক মাস জেলে থাকার পর দেশে পাঠিয়ে দেয়।’
রহমতউল্লাহ মনির বলেন, ‘আমাকে নিয়ে যাওয়ার দুই মাস পর একটা কাজ দেন আশরাফুল। তবে আকামা না থাকায় আশরাফুল তার খালাতো ভাইয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। সেখানে আমি প্রথম মাসে বাংলাদেশের অর্থমূল্যে অন্তত এক লাখ টাকার কাজ করি। কিন্তু আশরাফুলের খালাতো ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলে আমাকে সেখান থেকে নামমাত্র টাকা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী দাবিদাররা বলেন, সোহাগ ও মনিরসহ আশরাফুলের মাধ্যমে সৌদিতে যাওয়া কয়েকজন প্রতারণার বিষয়টি নিজেদের অভিভাবকদের জানান। পরে গত মঙ্গলবার (৭ জুন) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে এ বিষয়ে একটি সালিসের আয়োজন করে স্থানীয়রা। তবে ওই সালিসে আসেননি আশরাফুলের বাবা বিল্লাল হোসেন।
এ ব্যাপারে কথা বলতে সৌদি আরবে থাকা আশরাফুলের মোবাইলে ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। তবে আশরাফুলের বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আশরাফুল যাদের সৌদি আরবে নিয়েছে, তাদের এখনো কিছু টাকা বাকি আছে। এ কারণে আকামা দিচ্ছে না আশরাফুল। টাকা পেলেই আকামা দিয়ে দেবে।’
সোহাগ ও মনিরের দাবি, তারা সৌদি আরবে যাওয়ার আগেই আশরাফুলের বাবা বিল্লালের কাছে চুক্তি অনুযায়ী সব টাকা দিয়েছেন। টাকা বাকি থাকার কথা সত্য নয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’