• ই-পেপার

গোপালগঞ্জে ট্রেনের ধাক্কায় শিশু নিহত

হবিগঞ্জে বসতঘর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জে বসতঘর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বিউটি আক্তার নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত বিউটি আক্তার (২৫) ওই গ্রামের ওমানপ্রবাসী ইব্রাহিম মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বসতঘরের ভেতরে বিউটি আক্তারের নিথর দেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম সালিমুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বাঞ্ছারামপুর

দখল দূষণ আবর্জনায় নাকাল ঢোলভাঙ্গা নদী

ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
দখল দূষণ আবর্জনায় নাকাল ঢোলভাঙ্গা নদী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পাশে ঢোলভাঙ্গা নদীতে। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

মেঘনার শাখা নদী তিতাস অববাহিকায় ঢোলভাঙ্গা নদী ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের প্রাণ। সামাজিক সম্পর্ক, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, এমনকি শিল্পকারখানা বা পরিবহনের জন্যও এ নদীর গুরুত্ব ছিল অপরিহার্য। তবে নদীটি হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, দখল, দূষণ আর আবর্জনায় একসময়ের খরস্রোতা নদী  ঢোলভাঙ্গা এখন সরু বদ্ধ নালায় পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে এ নদীর অধিকাংশ স্থানে কোনোরকমে নৌকা চলাচলের মতোও পানি থাকে না। কোথাও কোথাও একেবারেই শুকিয়ে যায়। ফলে একসময় এ নদী ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এখন তা একেবারেই বন্ধ। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা ও পৌর এলাকার প্রধান বাজারের সব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ঢোলভাঙ্গা নদীতে। এতে দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চেপে নদী এলাকা পার হতে হয়। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন হাট-বাজারের নোংরা ও দূষিত পানি নদীতে পড়ছে। তারা জানান, পৌর এলাকার প্রতাবগঞ্জ বাজারের মাংসপট্টি এবং মুরগি ও শাক-সবজির দোকান রয়েছে, যার বর্জ্য ফেলা হয় নদীতে।

পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা তরী বাংলাদেশ-এর মূখ্য সমন্বয়ক শামীম আহমেদের ভাষ্য, ‘ঢোলভাঙ্গা নদীটি বাঁচাতে হলে আগে দূষণ, দখল ও  আবর্জনা বন্ধ করতে হবে। এরপর ড্রেজিং করতে হবে। নইলে একদিন এই নদীর জন্য মানুষ আপসোস করবে।’

পৌর শহরের চক বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী মুরতুজ মিয়া বলেন, ‘আগে বাজারের ব্যবসায়ীরা নৌপথে নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী থেকে চাল, ডাল-আটা ময়দা, তেল-লবণ আনতেন। নদীর গতিপথ বন্ধ হওয়ায় সড়কপথে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ হচ্ছে, যার চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। 

সম্প্রতি সরেজমিনে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ঢোলভাঙ্গা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীর দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে মার্কেট ও বাড়ি। এ ছাড়া নদীর কাছাকাছি গড়ে ওঠা সব বাজার ও ভবনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ বলেন, ‘ঢোলভাঙ্গা নদী আগে খনন করা জরুরি। নদীর অনেক জায়গায় প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। নদীটি খননের জন্য আমরা লিখিত আবেদন জমা দেব।’

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুরের বাসিন্দা ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব প্রকৌশলী  আল আমীন বলেন, ‘সম্প্রতি  তিতাস নদী ড্রেজিং করার সময় ঢোলভাঙ্গা নদী খনন করা যায় কিনা- সেই  চেষ্টা‌ করা হয়েছিল।‌ দুর্ভাগ্যের বিষয়, ততদিনে তিতাস নদী খননের সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হয়ে যায়। ফলে তিতাস নদী খননের  কাজটির সঙ্গে ঢোলভাঙ্গা নদী খননের কাজটি আর এগিয়ে নিতে পারিনি।‌ 

বিআইডাব্লিউটিএ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসী ও ইউএনও নদীখননের চাহিদাপত্র দিলে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢোলভাঙ্গা নদীর ড্রেজিংয়ের বিষয়ে ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের  সঙ্গে কথা বলেছি। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী খননের তালিকায় এ নদীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং খননের সুপারিশ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে  সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দখল ও দূষণ প্রতিরোধে অভিযান চলমান থাকবে।’

টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী নৌকা থেকে ৫০ জন উদ্ধার, আটক ৯

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী নৌকা থেকে ৫০ জন উদ্ধার, আটক ৯
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালয়েশিয়াগামী একটি নৌকা থেকে ৫০ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে আটক করা হয়। শনিবার (৬ জুন) দুপুরে টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কোস্ট গার্ড টেকনাফ স্টেশনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুত্তাকিন সিদ্দিকী।

আরো পড়ুন
উপকূলের সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি

উপকূলের সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি

 

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৫ জুন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড জাহাজ মনসুর আলী স্টেশন টেকনাফ, আউটপোস্ট শাহপরী দ্বীপ ও বাহারছড়ার সদস্যরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি নির্দেশ অমান্য করে গভীর সমুদ্রের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে বাহারছড়া উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা থেকে বোটটি আটক করা হয়। তল্লাশির সময় বোটে থাকা ৫০ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে আটক করা হয়।

উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন রোহিঙ্গা এবং বাকিরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।

আরো পড়ুন
ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সাত মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু

ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সাত মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের টেকনাফে নিয়ে আসে। পরে তাদের বিভিন্ন গোপন আস্তানায় আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় করা হতো। এরপর সাগরপথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল চক্রটির।

এ ছাড়া কয়েকজন ভুক্তভোগীকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার করা ভুক্তভোগী, আটক মানবপাচারকারী এবং জব্দ করা বোটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মানবপাচার প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

কেন্দুয়ায় চর্চা সাহিত্য আড্ডার ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
কেন্দুয়ায় চর্চা সাহিত্য আড্ডার ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

‘সাহিত্য হোক মননের মুক্তি, চর্চায় হোক সুজনের বিকাশ’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় উদযাপিত হয়েছে চর্চা সাহিত্য আড্ডার ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন সংগঠনের সদস্য, সাহিত্যপ্রেমী, কবি-লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীরা।

শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যার পর চর্চা সাহিত্য আড্ডার উদ্যোগে কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাব কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কেক কাটা, কবিকণ্ঠে স্বরচিত কবিতা পাঠ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজনটি সাজানো হয়।

চর্চা সাহিত্য আড্ডার উপদেষ্টা মির্জা রফিকুল ইসলাম ভান্ডারির সভাপতিত্বে সমন্বয়ক রহমান জীবনের সঞ্চালনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার।

এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন– উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল হক ভূইয়া, বিশিষ্ট সংস্কৃতিজন জহিরুল আলম ভূঁইয়া স্বপন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজনুর রহমান খন্দকার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন আহমেদ খোকন, উপজেলা জামায়াতের আমির সাদেকুর রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান, কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. লাইমুন হোসেন ভূঁইয়া, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. খায়রুল ইসলাম, উপজেলা নাগরিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান কাদেরী প্রমুখ।

মুখ্য আলোচক তার বক্তব্যে সমাজ বিনির্মাণে সৌন্দর্য ও জ্ঞানের চর্চাকে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন মানবতাবোধ সম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণে সৃজনশীল সাহিত্য চর্চা ও সংস্কৃতির বিকল্প নেই। মানুষের সৃষ্টিশীলতার বিকাশ সাধনের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে দেশপ্রেমের বিস্তার ঘটাতে পারলেই আলোকিত সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ সহজ হবে।

উপস্থিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে চর্চা সাহিত্য আড্ডা সংগঠনের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। মননশীল ও শুদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে চর্চা সাহিত্য আড্ডার এই পথচলা আরো গতিশীল হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে।

এ সময় কেন্দুয়া রিপোর্টার্সের সাবেক সভাপতি কবি সাংবাদিক আবুল কাশেম আকন্দ, মামুনুর রশীদ মামুন, আনোয়ার উদ্দিন হীরন, মনিরুজ্জামান রাফি, সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন, শিক্ষক কবি মাহবুবা খান দ্বীপান্বতা, কেন্দুয়া উপজেলা বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা চর্চা সাহিত্য আড্ডার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেষে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান করেন বাউল মুকুল সরকার, আনিছুল ইসলাম সাগর, বাউল আলেয়া সরকার, বাউল কবি নূর মিয়া, সংগীত শিল্পী আকাশ পন্ডিত, বাউল শিল্পী হৃদয় হাসান প্রমুখ।