• ই-পেপার

রাজশাহীতে পৃথক অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার, আটক ৫

কেন্দুয়ায় চর্চা সাহিত্য আড্ডার ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
কেন্দুয়ায় চর্চা সাহিত্য আড্ডার ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

‘সাহিত্য হোক মননের মুক্তি, চর্চায় হোক সুজনের বিকাশ’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় উদযাপিত হয়েছে চর্চা সাহিত্য আড্ডার ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন সংগঠনের সদস্য, সাহিত্যপ্রেমী, কবি-লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীরা।

শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যার পর চর্চা সাহিত্য আড্ডার উদ্যোগে কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাব কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কেক কাটা, কবিকণ্ঠে স্বরচিত কবিতা পাঠ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজনটি সাজানো হয়।

চর্চা সাহিত্য আড্ডার উপদেষ্টা মির্জা রফিকুল ইসলাম ভান্ডারির সভাপতিত্বে সমন্বয়ক রহমান জীবনের সঞ্চালনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার।

এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন– উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল হক ভূইয়া, বিশিষ্ট সংস্কৃতিজন জহিরুল আলম ভূঁইয়া স্বপন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজনুর রহমান খন্দকার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন আহমেদ খোকন, উপজেলা জামায়াতের আমির সাদেকুর রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান, কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. লাইমুন হোসেন ভূঁইয়া, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. খায়রুল ইসলাম, উপজেলা নাগরিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান কাদেরী প্রমুখ।

মুখ্য আলোচক তার বক্তব্যে সমাজ বিনির্মাণে সৌন্দর্য ও জ্ঞানের চর্চাকে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন মানবতাবোধ সম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণে সৃজনশীল সাহিত্য চর্চা ও সংস্কৃতির বিকল্প নেই। মানুষের সৃষ্টিশীলতার বিকাশ সাধনের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে দেশপ্রেমের বিস্তার ঘটাতে পারলেই আলোকিত সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ সহজ হবে।

উপস্থিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে চর্চা সাহিত্য আড্ডা সংগঠনের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। মননশীল ও শুদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে চর্চা সাহিত্য আড্ডার এই পথচলা আরো গতিশীল হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে।

এ সময় কেন্দুয়া রিপোর্টার্সের সাবেক সভাপতি কবি সাংবাদিক আবুল কাশেম আকন্দ, মামুনুর রশীদ মামুন, আনোয়ার উদ্দিন হীরন, মনিরুজ্জামান রাফি, সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন, শিক্ষক কবি মাহবুবা খান দ্বীপান্বতা, কেন্দুয়া উপজেলা বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা চর্চা সাহিত্য আড্ডার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেষে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান করেন বাউল মুকুল সরকার, আনিছুল ইসলাম সাগর, বাউল আলেয়া সরকার, বাউল কবি নূর মিয়া, সংগীত শিল্পী আকাশ পন্ডিত, বাউল শিল্পী হৃদয় হাসান প্রমুখ। 

বেনাপোলে ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি দুর্বৃত্তদের

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
বেনাপোলে ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি দুর্বৃত্তদের
সংগৃহীত ছবি

যশোরের বেনাপোলে লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেনের (৩৬) বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়েছেন দুর্বৃত্তরা। ঘটনার ওই ব্যবসায়ীর  বাড়ির দরজা এবং জানালায় একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। 

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌরসভার বড়আচড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘটিত এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান সোহাগ হোসেন (৩৬) নামে ওই ব্যবসায়ী।

সোহাগ হোসেন বড়আচড়া গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতে না থেকে একই গ্রামের চেকপোস্ট এলাকার মশিয়ারের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। 

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সোহাগ শুক্রবার রাত ১০টার দিকে অফিস থেকে বাসায় ফেরেন। এ সময় ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তার বাসার সামনে এসে অবস্থান নেয়। প্রথমে তারা উচ্চস্বরে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। পরে একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ঘরের জানালা ও দরজা লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা ঘরের জানালার কাচ ভাঙা, দরজায় গুলির চিহ্ন এবং আশপাশে পড়ে থাকা গুলির খোসা দেখতে পান। খবর পেয়ে  বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের একটি দল রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুলির খোসাসহ আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রথমে শব্দটিকে ককটেল বিস্ফোরণ মনে করলেও পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলির চিহ্ন দেখতে পান। হামলাকারীরা কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যান।

সোহাগ হোসেন জানান, তিনি ঘরের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। হামলাকারীরা বাইরে থেকে তাকে ডাকাডাকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা গুলি চালায়। একটি গুলি জানালার কাচ ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে দেয়ালে আঘাত করে এবং পরে দরজার অংশ ভেদ করে বাইরে চলে যায়। আরও কয়েকটি গুলি জানালা ও ঘরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে।

তিনি বলেন, আমি যদি ওই সময় জানালার পাশে বা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম তাহলে হয়তো আজ বেঁচে থাকতাম না। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে রক্ষা পেয়েছি।

হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল আমাকে হত্যা করা মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে একটি ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আমি মনে করি। এলাকায় একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। পুলিশ সেগুলো পর্যালোচনা করলে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারবে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বড়আচড়া গ্রাম বেনাপোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেখানে রাতের বেলায় প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হামলার সময় আশপাশে নারী, শিশু ও বয়স্ক লোকজন অবস্থান করছিলেন। গুলিগুলো অন্য কোনো বাসা বা পথচারীর গায়ে লাগলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারত।

একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়িক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

চাটখিলে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৪

চাটখিল ও সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
চাটখিলে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৪

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ঘাটলাবাগ গ্রামে বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে চাটখিল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, গত শুক্রবার বেলা ১১টার সময় তারেক আজিজ শিপন (৪০), আবদুর রহমান সুজন (৩৮), ইসমাইল হোসেন রুবেল (৩৮) ও ইয়াছিন আরাফাতসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে সাইফুল ইসলামদের কয়েকটি বসত ঘর ভাঙচুর করে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি করে। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন সাইফুল ইসলাম (২৮), আনোয়ার হোসেন (৪২), মুরাদ হোসেন (৩০) ও পেয়ারা বেগম (৫০)। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা মদ, জুয়াসহ সমাজে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থেকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তারেক আজিজ শিপন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ঘটনার সময় আমি অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম।

এ বিষয়ে চাটখিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) টুটুন মজুমদার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মৌলভীবাজারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকর্মী গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকর্মী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী রাব্বিন আহমেদ রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার সদর মডেল থানার অভিযানে সদর উপজেলার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বড়বাড়ি সোনাপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ কর্মী কমলগঞ্জ উপজেলার কালেঙ্গা গ্রামের  কবির মিয়ার ছেলে। 

আরো পড়ুন
গাইবান্ধায় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে আটক ৩

গাইবান্ধায় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে আটক ৩

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন  নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও  সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মৌলভীবাজার শহরের শমসেরনগর রোডস্থ আল-ফালাহ হাসপাতালের সামনে ব্যানারসহ বিক্ষোভ মিছিল করে এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ ঘটনায় মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় এসআই (নি.) শিপু কুমার দাস বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় এসআই (নি.) শিপু কুমার দাস বাদী হয়ে করা মামলায় এখন পর্যন্ত ওই মামলায় ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।