• ই-পেপার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যান উল্টে চালক নিহত

গাইবান্ধায় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে আটক ৩

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে আটক ৩
সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৩ যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার রাতে উপজেলার গাছাবাড়ী গ্রামের  মণ্ডলপাড়ার (চরপাড়া) এলাকার বুরুঙ্গী বিলে এ ঘটনা ঘটে৷‎

‎শনিবার সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎অভিযুক্তরা হলেন– লাবু মিয়া (২৫), নিরব মিয়া (২০),  বিপ্লব ওরফে ডিপজল (২৫)। তাদের মধ্যে দুই জনের বাড়ি গাছাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায় এবং বিপ্লব ওরফে ডিপজলের  বাড়ি বোনারপাড়া  ইউনিয়নে ফুটানিবাজার ।

আরো পড়ুন
যেমন থাকতে পারে আগামী ৫ দিনের আবহাওয়া

যেমন থাকতে পারে আগামী ৫ দিনের আবহাওয়া

 



‎স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগী  নারী জানান , ভুক্তভোগী নারী রাতে ফোনে কথা বলছিলেন। নেটওয়ার্কের সমস্যা দেখা দিলে ঘর থেকে বের হয়ে উঠানে এসে কথা বলা শুরু করেন। এ সময় আগে থেকে প্রস্তুত কয়েকজন যুবক ওই নারীল মুখ চেপে ধরে বুরুঙ্গি বিলের নির্জন জায়গায় নিয়ে পালা ক্রমে ধর্ষণ করেন । এ সময় ভুক্তভোগী নারীর কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ দুই হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটকে রাখে। এরপর পুলিশকে খবর দিলে শনিবার সকালে ওই তিন যুবককে
হেফাজতে নেয়।

‎সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম  জানান, আমরা খবর পেয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

তাড়াশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জেনারেটর অচল, বিদ্যুৎ গেলে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা

সনাতন দাশ, তাড়াশ-রায়গঞ্জ ( সিরাজগঞ্জ)
জেনারেটর অচল, বিদ্যুৎ গেলে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা
লোডশেডিং থাকায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টর্চের আলোয় রোগীকে সেবা দিচ্ছেন এক নার্স। শুক্রবার রাতে তোলা। -কালের কণ্ঠ

জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি তেল সংকটে তা অচল। এদিকে রাতে চলছে বার বার লোডশেডিং। এ সময় হাসপাতালজুড়ে নেমে আসে ভূতুড়ে অন্ধকার। বন্ধ রাখা হয় অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসা সেবা। রোগীরা হাঁসফাঁস করতে থাকেন। চিকিৎসক-নার্সরা মোমবাতি জ্বালিয়ে চালান জরুরি কার্যক্রম।

এমন অবস্থায় চলছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে ৩০ শয্যায় থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে। রোগীর অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় নির্বিঘ্নে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হাসপাতালে একটি জেনারেটর বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে জ্বালানি তেল বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় তা অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এতে লোডশেডিংয়ের সময় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের। প্রায়ই বন্ধ রাখা হচ্ছে অস্ত্রোপচারও।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা স্বর্ণা রানী বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে গেলে ভূতুরে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় মেয়েরা ওষুধ ও খাবার পানি টিউবওয়েল থেকে নিয়ে আসতে ভয় পায়।’ রোগী শেফালী খাতুন বলেন, ‘তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে এমনিতেই জীবন ওষ্ঠাগত। তার ওপর বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীরা হাঁসফাঁস করতে থাকে। তারা আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন।’

সাইফুল ইসলাম নামের এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, জেনারেটর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জেনারেটরই যদি না চলে এগুলোর দরকার কী।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, লোডশেডিংয়ের সময় মোমবাতি ও টর্চ লাইট জ্বালিয়ে জরুরি সেবা দিতে হচ্ছে বলে রোগীদের।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স শিলা খাতুন বলেন, পরিস্থিতি তো আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। ক্যানোলা পড়াতে, স্যালাইন ও ইনজেকশন দিতে সমস্যা হয়। রোগীরা নানা কথা বলেন, উত্তেজিত হয়ে পরেন। পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। 

আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ইমরান রসূল সায়েমের ভাষ্য, বিদ্যূৎ চলে গেলে নেবুলাইজার, অক্সিজেন সরবরাহ ও অপারেশন থিয়েটার চালু রাখতে ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সমস্যা হয়। জেনারেটর চালু করা গেলে এসব সমস্যার পাশাপাশি রোগীদের কষ্টও দূর করা সম্ভব হবে।

তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো.  আশরাফুল আলম বলেন, তেল সংকটের কারণে জেনারেটর বন্ধ রয়েছে। আমারা বিদ্যুতের ডাবল ফিডারের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করি লাইনটি চালু হলে বিদ্যুৎ সংকট আর থাকবে না।’

যুবদল নেতার ওপর ককটেল হামলা, শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
যুবদল নেতার ওপর ককটেল হামলা, শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেপ্তার
জাহাঙ্গীর আলম

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আওয়ামী লীগের মশাল মিছিল থেকে যুবদল নেতার উপর ককটেল হামলা মামলায় জাহাঙ্গীর আলম (৪২) নামে শ্রমিক লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম ধুনট সদরপাড়ার মতিউর রহমানের ছেলে। সে উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি। শুক্রবার রাতে ধুনট শহর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ২০২৫ সালের ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংঘবদ্ধ হয়ে শহরের শহীদ মিনার চত্বরে উপস্থিত হয়। তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে মশাল মিছিল করতে থাকে। এ সময় যুবদল নেতা রিপন সেখ ও তার লোকজন তাদের বাঁধা দেয়। তখন মশাল মিছিলকারীরা যুবদল নেতার দিকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ধুনট পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চরপাড়া গ্রামের রিপন সেখ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৯৬ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, এ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সাভারে আল-মুসলিম গ্রুপে শ্রমিক ছাঁটাই, ন্যায্য পাওনার দাবিতে বিক্ষোভ

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভারে আল-মুসলিম গ্রুপে শ্রমিক ছাঁটাই, ন্যায্য পাওনার দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি : কালের কণ্ঠ

সাভারের আল মুসলিম গ্রুপের পোশাক কারখানায় ছাঁটাইয়ের ঘটনায় ন্যায্য পাওনার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। শনিবার (৬ জুন) সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার উলাইল বাসস্ট্যান্ডের আল মুসলিম পোশাক কারখানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, পোশাক শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেখতে পান। এ ছাড়া ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের এক মাসের বেতন পরিশোধ করেছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। তবে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের দাবি, ২৬ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন পরিশোধ করতে হবে। অবিলম্বে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে না নিলে আরো কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা।

১৩ বছর ধরে এ কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত আফানুর জানান, হঠাৎ মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সকালে কাজে এলে কর্তৃপক্ষ কারখানায় ঢুকতে দেয়নি। একই ধরনের অভিযোগ করেন ৭ বছর ধরে কর্মরত রোজিনা আক্তার, ২ বছর ৫ মাস ধরে কর্মরত মো. রকিবুল্লাহ এবং ট্রেনিং সেন্টার থেকে সদ্য লাইনে আসা আছিয়া আক্তার। তাদের অভিযোগ, তিন মাস ১৩ দিনের পাওনা দিয়ে ছাঁটাই করার নিয়ম থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা মানেনি।

বর্তমানে উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের সামনের পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আল মুসলিম গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান জানান, শ্রমিকদের ২০ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই করা হয়েছে এবং তাদের পাওনা এক মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের ২৬ ধারায় তিন মাসের বেতন পরিশোধের বিষয়ে শিল্প পুলিশের সঙ্গে আলোচনা হয়নি এবং তিন মাসের বেতন আমরা দেব না। শুধু এক মাসের বেতন কেউ না পেয়ে থাকলে তাদের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা হচ্ছে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। মালিক পক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়েছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘আল-মুসলিম গ্রুপ’ তাদের তিনটি কারখানার ১ হাজার ৮৬৮ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। ছাঁটাইকৃত শ্রমিকের মধ্যে সাভার উলাইল এলাকার ‘এ কে এম নিটওয়্যার লিমিটেড’ কারখানা থেকে ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকার ‘প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যার’ কারখানার ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ায় অবস্থিত ‘আল-মুসলিম অ্যাপারেলস’ কারখানার ৫৩ জন কর্মী রয়েছেন।