• ই-পেপার

ঘোড়াকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল ঘোড়াগাড়ি চালকের

খুলনায় তুচ্ছ ঘটনায় দুই কিশোরকে ছুরিকাঘাত

খুলনা অফিস
খুলনায় তুচ্ছ ঘটনায় দুই কিশোরকে ছুরিকাঘাত

খুলনা মহানগরীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৃথক স্থানে দুই কিশোরকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৩টার দিকে খুলনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র রাইয়ানকে (১৫) ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সংগীতা সিনেমা হলের পাশ থেকে রিকশাযোগে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন যুবক। পরে সদর থানার পিটিআই মোড় সংলগ্ন সেন্ট জোসেফ স্কুলের সামনে নিয়ে তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোমরের পেছনের ডান পাশে ও বাম পায়ের হাঁটুর নিচে আঘাত করা হয়।

অন্যদিকে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সদর থানার মিয়াপাড়া পাইপের মোড় এলাকায় আরমান (১৭) নামে আরেক কিশোরকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে বাম হাতের বাহু ও কোমরের বাম পাশের ওপরের অংশে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

পরে আহত রাইয়ান ও আরমানকে স্বজনরা উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি (৯+১০) ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। 

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আহত দুই কিশোরের সঙ্গে অভিযুক্তদের আগে থেকেই তর্ক-বিতর্ক ও বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পৃথক স্থানে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিভাবকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘থুথু দেওয়া’কে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সেই বিরোধ থেকেই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মৌলভীবাজারে বিশেষ অভিযানে ১৭ আসামি গ্রেপ্তার

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে বিশেষ অভিযানে ১৭ আসামি গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার ১৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্য রয়েছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকায় এ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

একই সঙ্গে আন্তঃজেলা মহিলা পকেটমার ও চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য মেমরাজ (২৯), মাফিয়া বেগম (২৮) ও রাহেনাকে (২৩) আটক করা হয়। এ ছাড়া থানার বিভিন্ন মামলায় আরো কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন ইসলাম মিয়া, কল্পনা বেগম, সোহান মিয়া, সোহাগ মিয়া, সাবানা বেগম, রুজিনা বেগম, আকুল মিয়া, শাহ আলম ও খায়রুজ্জামান।

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত সকল আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কক্সবাজারে ৫ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজারে ৫ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক তিনটি অভিযানে ৫ লাখ ৭২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসময় মো. আমিন (২০) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকার বেশি।

বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর উনচিপ্রাং বিওপির সদস্যরা টেকনাফ সীমান্তের ইছাকের ঘের এলাকায় থার্মাল ডিভাইসের মাধ্যমে তিন সন্দেহভাজন চোরাকারবারিকে শনাক্ত করেন। বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা তিনটি পলিথিনের পোটলা ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরে তল্লাশি চালিয়ে ওই স্থান থেকে ২ লাখ ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের গুইজারখাল এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে বিজিবি। এসময় তারা দুটি ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়। ব্যাগ দুটি তল্লাশি করে ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৯ কোটি টাকা।

একই রাতে বালুখালী বিওপির একটি টহল দল উখিয়ার মাস্টারের ঘের এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আমিন (২০) নামে এক যুবককে আটক করে। তার কাছে থাকা একটি কাপড়ের পোটলা থেকে ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক আমিন উখিয়ার বালুখালী এলাকার বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমিন জানিয়েছেন, তিনি মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে অধিক মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পালিয়ে যাওয়া মাদক কারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

স্ত্রীর শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা, মাথার চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
স্ত্রীর শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা, মাথার চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ
স্বামী আপন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা, মাথার চুল কাটা ও বোতল দিয়ে আঘাত করায় স্বামী আপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে আপনের স্ত্রী শিমু আক্তার বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় স্বামী আপন মিয়া, শ্বশুর ফজলু মিয়া ও শাশুড়ি আন্না বেগমকে আসামি করে এ মামলা করেন বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল জানিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে শিমু আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামের মধ্যপাড়ার ফজলু মিয়ার ছেলে আপন মিয়ার বিয়ে হয়। আপন মিয়া ২০২১ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি নেন। তিনি কক্সবাজার রামুতে কর্মরত। বর্তমানে রংপুরের সৈয়দপুরে ছয় মাসের ট্রেনিংয়ে আছেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্র জানান, বিয়ের তিন মাস পর থেকে আপন ও শিমুর মধ্যে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। সম্প্রতি স্বামী আপন মিয়া মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্য শিমুর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছিল। তার চাহিদামতো এই টাকা দিতে না পাড়ায় স্ত্রী শিমুর ওপর নানাভাবে নির্যাতন শুরু করেন আপন। আপন ২১ মে ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসেন। গত শনিবার (২৩ মে) স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শিমুকে শারীরিক নির্যাতন চালান এবং মাথার চুল কেটে দেন। 

গত শুক্রবার (২৯ মে) আপন স্ত্রী শিমুকে নিয়ে উপজেলার ধেরুয়া এলাকার আনিশা জলকুটির রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে স্ত্রী শিমুর হাতে ও আঙুলে কাচের বোতল দিয়ে আঘাত করে আহত করে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেন স্বামী। পরে সেখান থেকে আহত অবস্থায় লতিফপুর গ্রামে নিয়ে যান এবং রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা শ্বশুর-শাশুড়ির সামনে শিমুকে রেখে আপন চলে আসে। রাতে পরিবারের লোকজন শিমুকে জামুর্কীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ৩০ মে শিমু আক্তার বাদী হয়ে স্বামী আপন, শ্বশুর ফজলু মিয়া ও শাশুড়ি আন্না বেগমকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে শুক্রবার বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করেন।

নির্যাতিত গৃহবধূ শিমু আক্তার বলেন, আমার স্বামীর অন্য একজনের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক আছে। আমার সঙ্গে বিয়ের আগে ওই মেয়ে আমার স্বামী আপনের নির্দেশে বিয়ের দাবিতে বাড়িতে উঠেছিল। এ ঘটনা আমার বিয়ের পরে জানতে পারি। আপন ওই মেয়েকেও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার আগের স্বামীকে ডিফোর্স দেওয়ায়। কিন্তু আপন তাকে বিয়ে না করে এই তথ্য গোপন করে আমাকে বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর থেকে আমাকে অনেক মারধর করা হয়েছে। আমার দরিদ্র বাবা-মায়ের কথা চিন্তা করে আমি তার সংসার করতে চেয়েছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। আমি চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমার স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের সুষ্ঠু বিচার হোক।

লতিফপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মিজানুর রহমান বলেন, স্বামী আপন স্ত্রী শিমুর মাথার চুল কেটে দিয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। স্ত্রী অপরাধ করতে পারে, তাই বলে এমন অমানবিক নির্যাতন কাম্য নয়। আমরা এর সঠিক বিচার দাবি করছি। 

অভিযুক্ত স্বামী আপন মিয়া বলেন, স্ত্রী শিমুর সঙ্গে দেওহাটা এলাকার সাগর নামে এক ছেলের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক আছে। এই সম্পর্কের কারণে আমার চার মাসের সন্তান নষ্ট করেছে শিমু। 

স্ত্রী শিমুর মাথার চুল কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, শিমুর টাইফয়েড জ্বর হয়েছিল। ডাক্তারের পরামর্শে চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। সুস্থ অবস্থায় তার বাবা-মার কাছে শিমুকে দিয়ে আসেন বলে জানান।   

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল জানান, এ ঘটনায় গৃহবধূ শিমু আক্তার তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান।