• ই-পেপার

গলাচিপায় বজ্রাঘাতে এক দিনে দুই কৃষকের মৃত্যু

জনশক্তি রপ্তানিতে পিছিয়েছে চট্টগ্রাম, এগিয়ে কুমিল্লা

অনলাইন ডেস্ক
জনশক্তি রপ্তানিতে পিছিয়েছে চট্টগ্রাম, এগিয়ে কুমিল্লা

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রম বাজারে জনশক্তি রপ্তানিতে পিছিয়েছে চট্টগ্রাম। তবে গত কয়েক বছরে জনশক্তি রপ্তানিতে এগিয়েছে কুমিল্লা। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর কর্মকর্তারা বলছেন, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের প্রতি ঝোঁক, সব ধরনের পেশায় সম্পৃক্ত না হওয়া এবং নিজ জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় বিদেশ গমনে আগ্রহ কমছে চট্টগ্রামের মানুষের।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০০৫ সালের আগ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানিতে এগিয়ে ছিল চট্টগ্রাম। এরপরে চট্টগ্রামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যেতে শুরু করে কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্লাটফর্মের (ওইপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে চাকরির জন্য বিদেশ গেছে ৮৭ হাজার ৫২৪ জন।

একই সময়ে কুমিল্লা থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩৮ জন এবং চাঁদপুর থেকে বিদেশ গেছে ৮৪ হাজার ৯২৪ জন। তবে ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত জনশক্তি রপ্তানির হিসাব ধরলে চট্টগ্রামের চেয়ে এগিয়ে আছে চাঁদপুর।

২০২৩ সালে চট্টগ্রাম থেকে বিদেশ গেছে ৭ হাজার ৪০৮ জন, কুমিল্লা থেকে ১৫ হাজার ১৩৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ১৪ হাজার ৬৫৩ জন ও চাঁদপুর থেকে ১ হাজার ৪৪ জন।

২০২৪ সালে চট্টগ্রাম থেকে ৩৮ হাজার ১৬২ জন, কুমিল্লা থেকে ৭৩ হাজার ৭৩৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৫৯ হাজার ৯২৭ জন এবং চাঁদপুর থেকে ৪০ হাজার ৭৫৪ জন বিদেশ গেছে।

২০২৫ সালে চট্টগ্রাম থেকে ৪১ হাজার ৮৩৩ জন, কুমিল্লা থেকে ৭৬ হাজার ৫০১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৬৭ হাজার ২১৭ জন ও চাঁদপুর থেকে ৪২ হাজার ৯৮২ জন বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে গেছেন ১২১ জন, কুমিল্লা থেকে ২৬১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৫৪১ ও চাঁদপুর থেকে ১৪৪ জন গেছেন।

জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্তদের ভাষ্য, চট্টগ্রামের লোকজন মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই ও ওমানে যেতে বেশি আগ্রহী। সেখানে চট্টগ্রামের লোকজন বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। যারা নতুন করে বিদেশে যেতে চায়, তারাও সেখানে গিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার প্রতি আগ্রহী।

এ দুই দেশে ভিসা বন্ধ ও ধীরগতির কারণে বিদেশযাত্রা অনেকটা কমে এসেছে। তবে ইদানীং সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারে যাচ্ছেন অল্প কিছু বিদেশগামী। এছাড়াও চট্টগ্রামে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় চট্টগ্রামের অনেক লোক এখন বিদেশে চাকরির খোঁজে যেতে চান না।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) প-পরিচালক (প্রশাসন) জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে কর্মী যায়। তবে চট্টগ্রামের লোক যায় মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট কিছু দেশে, যেগুলোর মধ্যে অন্যতম ওমান ও দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত)। এসব দেশে ভিসা বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম থেকে জনসংখ্যা রপ্তানি কমেছে।”

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের লোকজন আঞ্চলিকতাকে প্রাধান্য দেয়। অন্য জেলার লোকজন কাজের সুবাদে যেকোনো দেশে যেতে আগ্রহী।তবে সেক্ষেত্রে চট্টগ্রামের লোকজন একটু ব্যতিক্রম। তারা নিজ এলাকার লোকজন যে দেশে বেশি, সেখানেই মূলত যেতে চান।’

জহিরুল বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিভিন্ন ধরনের কারখানা গড়ে উঠেছে। সেগুলোতে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে কাজের ক্ষেত্রও বেড়েছে। কেউ এক পেশায় থাকলে, সে অন্য পেশায় সহজেই যেতে পারছে। যেটা অন্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে উঠে না।’

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (অ্যাটাব) সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবু জাফর বলেন, ‘চট্টগ্রামের লোকজন মূলত যেতে চান ওমান, দুবাই কুয়েত ও সৌদি আরব। এসব দেশগুলোতে ভিসা বন্ধ থাকায় বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের লোকজনের সংখ্যা কমেছে। চট্টগ্রামের লোকজন সব ধরনের পেশায় কাজ করতে চান না। আর চাকরির উদ্দেশ্যে কম যান। তারা যেতে চান ব্যবসা করতে। আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে তারা গিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যে যুক্ত হয়ে যান।’

সান্তাহারে ডজনখানেক মামলার আসামিকে এক বছরের জেল

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
সান্তাহারে ডজনখানেক মামলার আসামিকে এক বছরের জেল

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারের ডজন খানেক মাদক মামলার আসামি রহিমা বেগম ওরফে শুটকিকে (৫০) এক বছরের জেল দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম এ রায় দেন।

আরো পড়ুন

দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত?

দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত?

 

সাজাপ্রাপ্ত রহিমা উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের চা বাগান এলাকার নজরুল ইসলামের স্ত্রী। ওইদিন বিকেলে রহিমার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের চা বাগান এলাকায় বসবাস করেন মাদক কারবারি রহিমা বেগম ওরফে শুটকি। তার স্বামী নজরুলের বিরুদ্ধেও ৯টি মামলা আছে। তারা স্বামী-স্ত্রী এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি। দীর্ঘদিন ধরে তারা বাড়ি থেকেই মাদক বেচাকেনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি চা-বাগান মহল্লাবাসী একত্রিত হয়ে মাদক সম্রাজ্ঞী এই শুটকির বাড়িঘর ভেঙে দিয়ে বসত ভিটা থেকে তাদের উচ্ছেদ করেন। কিন্তু কিছুদূর সরে গিয়ে নতুন বাড়ি তৈরি করে আবারও তারা মাদক ব্যবসা শুরু করেন।

আরো পড়ুন

ঢাকার কিছু এলাকার জন্য ডিএমপির বিশেষ নির্দেশনা, গণবিজ্ঞপ্তি

ঢাকার কিছু এলাকার জন্য ডিএমপির বিশেষ নির্দেশনা, গণবিজ্ঞপ্তি

 

এর আগে একাধিক মামলায় কারাভোগ করলেও ছাড়া পাওয়া মাত্র ফের মাদক কারবার শুরু করেন শুটকি। পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে মাদক সম্রাজ্ঞী শুটকি তার বাড়িতে মাদকদ্রব্য মজুদ রেখেছে। সেই সূত্র ধরে শনিবার বিকেলে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তার করেন।

সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন জানান, গ্রেপ্তার শুটকিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

খুলনায় তুচ্ছ ঘটনায় দুই কিশোরকে ছুরিকাঘাত

খুলনা অফিস
খুলনায় তুচ্ছ ঘটনায় দুই কিশোরকে ছুরিকাঘাত

খুলনা মহানগরীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৃথক স্থানে দুই কিশোরকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৩টার দিকে খুলনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র রাইয়ানকে (১৫) ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সংগীতা সিনেমা হলের পাশ থেকে রিকশাযোগে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন যুবক। পরে সদর থানার পিটিআই মোড় সংলগ্ন সেন্ট জোসেফ স্কুলের সামনে নিয়ে তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোমরের পেছনের ডান পাশে ও বাম পায়ের হাঁটুর নিচে আঘাত করা হয়।

অন্যদিকে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সদর থানার মিয়াপাড়া পাইপের মোড় এলাকায় আরমান (১৭) নামে আরেক কিশোরকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে বাম হাতের বাহু ও কোমরের বাম পাশের ওপরের অংশে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

পরে আহত রাইয়ান ও আরমানকে স্বজনরা উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি (৯+১০) ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। 

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আহত দুই কিশোরের সঙ্গে অভিযুক্তদের আগে থেকেই তর্ক-বিতর্ক ও বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পৃথক স্থানে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিভাবকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘থুথু দেওয়া’কে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সেই বিরোধ থেকেই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মৌলভীবাজারে বিশেষ অভিযানে ১৭ আসামি গ্রেপ্তার

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে বিশেষ অভিযানে ১৭ আসামি গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার ১৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্য রয়েছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকায় এ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

একই সঙ্গে আন্তঃজেলা মহিলা পকেটমার ও চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য মেমরাজ (২৯), মাফিয়া বেগম (২৮) ও রাহেনাকে (২৩) আটক করা হয়। এ ছাড়া থানার বিভিন্ন মামলায় আরো কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন ইসলাম মিয়া, কল্পনা বেগম, সোহান মিয়া, সোহাগ মিয়া, সাবানা বেগম, রুজিনা বেগম, আকুল মিয়া, শাহ আলম ও খায়রুজ্জামান।

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত সকল আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।