নতুন সদস্য সংযুক্তি ও ভোটার নিয়ে বিতর্কে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। গত বুধবার এ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আ.খ.ম. ওয়ালী উল্লাহ।
জানা যায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খানকে সভাপতি এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে জিয়া পরিষদ ইবি শাখার কমিটি গঠন করা হয়। চলতি বছরে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আ.খ.ম. ওয়ালী উল্লাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে তিন সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন আগামী ২৪ জুন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে নির্বাচন ঘিরে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ নানা বিতর্ক তৈরি হওয়ায় নির্বাচন স্থগিত করে কমিশন।
এদিকে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরপরই এর ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। সংগঠনটির খসড়া ভোটার তালিকায় একই সঙ্গে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম ও বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদের ভোটার তালিকায় একই শিক্ষকের নাম পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত শাপলা ফোরামের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় ১৩১ নম্বরে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজগর হোসেনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে গত ১৫ জুন প্রকাশিত জিয়া পরিষদের ২০২৬ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকার ২৩ নং ভোটার হিসেবেও তার নাম রয়েছে। একই ব্যক্তির বিপরীত রাজনৈতিক আদর্শের দুই সংগঠনে পৃথক নির্বাচনি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়া সদস্য নিয়োগপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষক জিয়া পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করেন। তবে তাদেরকে খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং না করার বিষয়ে সংগঠনটির অন্য সদস্যদের মাঝে মতবিরোধ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আ.খ.ম. ওয়ালী উল্লাহ বলেন, ‘জিয়া পরিষদের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। ভোটার তালিকার সমস্যাসহ আরো কিছু অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। সেগুলো সমাধান করে নতুন সিডিউল ঘোষণা করব আমরা। এ ছাড়া ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক ও নতুন ভোটার সংযুক্তির বিষয়টি সংগঠনের সিদ্ধান্ত। আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। সংগঠন যেই সিদ্ধান্ত নেবে সে অনুযায়ী আমরা আগাব।’
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছে স্থগিতের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম আমরা, কিন্তু তারা উত্তর এখনো দেয়নি। এ ছাড়া আজগর হোসেনের বিষয়ে আমরা পূর্বে জানতাম না। আমরা তাকে অনেক দিন থেকেই জিয়া পরিষদের ভোটার তালিকায় দেখছি। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আমরা সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসরণ করেছি। এই মুহূর্তে সংগঠনের কোনো শাখাতেই নতুন সদস্য নেওয়া হচ্ছে না।’
তবে এসকল বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন।







