• ই-পেপার

চীন-মায়ানমার করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে বিনিয়োগ বাড়বে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা শক্তিশালী করতে ব্যবসা শুরু, লাইসেন্স প্রদান, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতে দ্রুতগতির সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ‘শিল্প খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বিজিএমইএ-কে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও সংগঠিত ব্যাবসায়িক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত—যেমন চামড়া, পাট, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাহাজ নির্মাণ—উন্নয়ন হলেও স্বল্প মেয়াদে কোনো খাতই তৈরি পোশাক শিল্পের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। তাই অর্থনীতিতে এই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ব্যবসা শুরু ও লাইসেন্স প্রাপ্তিতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগলেও এই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কম্পানি নিবন্ধনের মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই উদ্যোক্তারা আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) এবং অন্যান্য প্রাথমিক অনুমোদন পেয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের পরিবর্তে এখন থেকে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে উদ্যোক্তাদের হয়রানি কমবে এবং শিল্প স্থাপনের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, কম্পানি নিবন্ধন, শেয়ার হস্তান্তর ও কোম্পানি বিলুপ্তিসহ সব সেবা অনলাইনে প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সফল মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততার ফলে কার্গো পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। এতে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকরা বৈশ্বিক বাজারে আরো প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন।

জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি আমদানির পাশাপাশি আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫৫০-৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। তাই নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার, যা শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দক্ষ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ফাউন্ডার কামাল আহমেদ, ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং এবং এইচএসবিসি ব্যাংকের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সৈয়দা আফজালুন নেসা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কুতুবউদ্দিন আহমেদ এবং সাবেক সহ-সভাপতি ও ঊর্মি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ার কৌশল নিয়ে ঢাকায় কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ার কৌশল নিয়ে ঢাকায় কর্মশালা
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশি উৎপাদক ও উদ্যোক্তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি ও কৌশল বিষয়ে ঢাকায় একটি প্রিমিয়াম কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশি ম্যানুফেকচারার টু ইউএস রিটেল ব্র্যান্ড অনার’ শীর্ষক এই কর্মশালার যৌথ আয়োজন করে বিজনেস গ্লোবালাইজার ও স্কাই প্রেপ সেন্টার। রাজধানীর একটি হোটেলে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৫৭ জন উৎপাদক, রপ্তানিকারক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী অংশ নেন।

আয়োজকেরা জানান, কর্মশালাটি ছয়টি মূল সেশন ও একটি বিশেষ অতিথি সেশন নিয়ে সাজানো হয়। এতে পণ্য নির্বাচন, বাজার যাচাই, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, ব্যাংকিং, লজিস্টিকস, ওয়্যারহাউস ব্যবস্থাপনা, ফুলফিলমেন্ট, মূল্য নির্ধারণ এবং বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতিসহ উৎপাদন থেকে ভোক্তার হাতে পণ্য পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়া বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে প্রবেশের একটি ধাপভিত্তিক রোডম্যাপও উপস্থাপন করা হয়।

কর্মশালার মূল সেশন পরিচালনা করেন বিজনেস গ্লোবালাইজারের লিড কনসালট্যান্ট ও স্কাই প্রেপ সেন্টারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এসটি এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর ইসলাম, ফ্রন্টিয়ার পেট ফুডস লিমিটেডের পরিচালক আবিদ আজাদ খান এবং ই-কম শিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোয়েব আলী শেখ। বক্তারা আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা, সীমান্তপারের ই-কমার্স ও বাজার সম্প্রসারণের নিজস্ব বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

বিজনেস গ্লোবালাইজারের লিড কনসালট্যান্ট আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘উৎপাদনই শেষ কথা নয়। একটি পণ্য যখন নিজস্ব ব্র্যান্ডের পরিচয়ে ক্রেতার হাতে পৌঁছায়, তখনই প্রকৃত যাত্রা শুরু হয়। এই যাত্রার সময় ও ব্যয় কমিয়ে এনে আমরা বাংলাদেশি ব্র্যান্ডগুলোকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করতে চাই।’

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ১০ বছর পূর্তি উদযাপন করা বিজনেস গ্লোবালাইজার গত এক দশকে ৮ হাজারের বেশি কোম্পানি গঠনে সহায়তা করেছে এবং ৫ হাজারের বেশি ক্লায়েন্টকে সেবা দিয়েছে। অন্যদিকে স্কাই প্রেপ সেন্টার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি ওয়্যারহাউস পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি ২৫০টির বেশি ক্লায়েন্টকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ২০ হাজারের বেশি পণ্য চালান ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

ওয়ার্কশপের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উদ্যোক্তারা নিজেদের পণ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের কৌশল এবং আন্তর্জাতিক খুচরা ব্যবসার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশকে ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশকে ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বিশ্ববাজারে সার ও জ্বালানির দাম এবং সরবরাহে অস্থিরতা মোকাবেলা, খাদ্যনিরাপত্তা টেকসই রাখা এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশে দুটি প্রকল্পে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিশ্বব্যাংকের ওয়াবসাইটে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এতে ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে বিশ্বব্যাংক। ধান উৎপাদনের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, পরিবার, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

৩০০ মিলিয়ন ডলারের ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবর আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানিতে সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক।

দেশে মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশিই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানিতে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক, যার অর্ধেকই ইউরিয়া সার। এতে ক্ষুদ্র কৃষকদের চাষ করা ১৪ লাখ হেক্টর জমির ধান উৎপাদন সহায়তা পাবে।

বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার সোলেমান কুলিবালি বলেন, ‘বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা আমন ও বোরো ধান মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। এ দুই মৌসুম মিলিয়ে দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে। এ ছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী কৃষি খাতে কর্মরত। তাই সার সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা শুধু খাদ্যনিরাপত্তাকেই ঝুঁকিতে ফেলবে না, দারিদ্র্য বাড়াবে এবং কর্মসংস্থানেও প্রভাব ফেলবে।’

এ ছাড়া ৭১৩ মিলিয়ন ডলারের ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স’ প্রকল্পের আওতায় দ্রুত ছাড়যোগ্য জরুরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নগদ সহায়তা ও জীবিকা সহায়তা। সংকটকালে আয় স্থিতিশীল রাখা এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষায় এ সহায়তা ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের আওতায় জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহেও অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি এবং পানির মতো অপরিহার্য সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রকল্পের অর্থ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে বলে জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞতিতে।

বিশ্বব্যাংকের লিড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট এবং প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার লেসলি জেন ইউ করদেরো বলেন, বিশ্বব্যাংকের সংকট প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার টুলকিট বা ব্যবস্থার মাধ্যমে এ প্রকল্প বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিকভাবে তহবিল পাওয়ার সুযোগ দেবে। বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে সম্পদ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আকস্মিক ধাক্কার প্রভাব থেকে মানুষ, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানগুলোকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

অনলাইন ডেস্ক
আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানাম করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (২৭ জুন ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা
ইউরো : ১৩৯ টাকা ৪০ পয়সা
পাউন্ড : ১৬১ টাকা ৬০ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ২৩ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৪ টাকা ৬৮ পয়সা
চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ০১ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৪ টাকা ৫৮ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৯ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ০৯ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৮৮ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৭৫ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৭ টাকা ২১ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা

*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলা বাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।