• ই-পেপার

কর আদায়ে শুধু এনবিআরকেই চাপ দেওয়া হয় কেন : হোসেন জিল্লুর

সঞ্চয়পত্র নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
সঞ্চয়পত্র নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা

সঞ্চয়পত্র বিক্রির তালিকাভুক্ত ব্যাংক হয়েও গ্রাহকদের নানা প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করার অভিযোগে সব তফসিলি ব্যাংককে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সঞ্চয়পত্র বিক্রি কার্যক্রম ও সেবা অব্যাহত রাখতে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ডিএমডি সার্কুলার লেটার নং- ০৯/২০২৬-এর মাধ্যমে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, তফসিলি ব্যাংকসমূহ সঞ্চয়পত্র বিক্রির তালিকাভুক্তিতে থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকগণকে নানা প্রক্রিয়ায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করছে।

সঞ্চয়পত্র রুলস, ১৯৭৭-এর অনুচ্ছেদ নং-৩-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের ইস্যু অফিস হিসেবে বিনিয়োগকারীদের কাছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ ছাড়া শাখাসমূহের সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা, গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া শাখার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিএমডির পরিচালক ইস্তেকমাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে সঞ্চয়পত্র সেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

জুনের ২৩ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২২৪ কোটি ডলার

অনলাইন ডেস্ক
জুনের ২৩ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২২৪ কোটি ডলার
সংগৃহীত ছবি

চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে ২২৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৯ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, চলতি জুন মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
 
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ৪৯৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ।

এর আগে গত মে মাসে দেশে এসেছে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাস আয়।

একটি ফ্ল্যাটে কতবার কর? প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে উদ্বেগ আবাসন খাতে

অনলাইন ডেস্ক
একটি ফ্ল্যাটে কতবার কর? প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে উদ্বেগ আবাসন খাতে
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিন ধরে চলা মন্দার মধ্যে নতুন কর আরোপ, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয় দেশের আবাসন খাতকে আরো চাপে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আবাসন খাত এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিল্পে কর্মরত প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নির্মাণসামগ্রীর ওপর করহার বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাট বা অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধার বিপরীতে জমির মালিকদের ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা করের আওতায় আনার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, জমির মালিকদের উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক চুক্তি অর্থের পাশাপাশি ফ্ল্যাট বা অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধার ওপরও ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা কর দিতে হবে। এর আগে শুধু প্রাথমিক চুক্তি অর্থের ওপর ১৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য ছিল।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো ব্যক্তি যদি তার ৫ কাঠা জমি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করেন, তাহলে প্রথমে প্রাপ্ত প্রাথমিক চুক্তি অর্থের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। পরে উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ফ্ল্যাট বুঝে নেওয়ার সময়ও ১৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য হবে। একইভাবে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এ ছাড়া ফ্ল্যাট হস্তান্তর বা বিক্রির সময়ও ১৫ শতাংশ কর আরোপিত হবে।

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের নেতাদের মতে, জমির মালিকদের ওপর নতুন এই কর আবাসন খাতে নতুন সংকট সৃষ্টি করবে। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, ২৪টি ফ্ল্যাটের একটি প্রকল্পে জমির মালিক যদি ১২টি ফ্ল্যাট পান এবং সেগুলোর মূল্য ১২ কোটি টাকা হয়, তাহলে তাকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কর দিতে হবে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের দামের ওপর পড়বে।

শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান শেলটেকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান জানিয়েছেন, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর বিক্রি কিছুটা বেড়েছিল। কিন্তু চলতি মাসে আবার বিক্রি কমে গেছে। তাঁর মতে, জমির মালিকদের ওপর নতুন কর আরোপের ফলে আবাসন খাতের গতি আরো শ্লথ হবে, কমে যাবে ফ্ল্যাট নিবন্ধনের হারও। এতে সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মো. শাহজাহান আরো বলেন, প্রতিবছরই নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ছে। এবার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন করের কারণে ব্যয় আরো বাড়বে। একই সঙ্গে জমির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি হওয়ায় ফ্ল্যাটের মূল্যও বৃদ্ধি পেতে পারে।

আরো কয়েকজন আবাসন ব্যবসায়ী বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আবাসন খাতে মন্দা ভাব চলছে। এ সময়ে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্যদের বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছিলেন তারা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তায় সেটি হয়নি। আবার কর আরোপের কারণে ব্যবসায়ে গতি ফেরাও কঠিন হবে। তার কারণ করের প্রভাবে খরচ বাড়বে। ফ্ল্যাটের দাম প্রতি বর্গফুটে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আবাসন বাজারে স্থবিরতা দেখা দেয়। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও প্রত্যাশিত মাত্রায় বাজারে গতি ফেরেনি। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং দেশের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নতুন কর আরোপের ফলে আবাসন খাতের বিদ্যমান সংকট আরো গভীর হতে পারে।

গ্যাস নেই, পড়ে আছে ২১ হাজার কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগ

অনলাইন ডেস্ক
গ্যাস নেই, পড়ে আছে ২১ হাজার কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগ
প্রতীকী ছবি

গ্যাস নেই। অলস পড়ে আছে দুটি শিল্প গ্রুপের ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ। শুধু তাই নয়, এতে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকা সুদ দিতে হচ্ছে গ্রুপ দুটিকে। গ্যাসের অভাবে চালু হচ্ছে না মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ৭ হাজার ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি ও সিটি গ্রুপের ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাঁচটি কারখানা। পেট্রোবাংলায় জমা পড়ে আছে এক হাজার ৮০০ বেশি আবেদন।

কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) দুটি কারখানা নির্মাণ করেছে। একটি কাচ তৈরির, আরেকটি রডের। কাচ তৈরির কারখানাটি নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় আড়াই বছর আগে। আর রডের কারখানাটির কাজ শেষ হয়েছে দেড় বছর আগে। এমজিআই যখন বিনিয়োগ করে, তখন তারা গ্যাস–সংযোগের আশ্বাস পেয়েছিল। সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নিজেরাই ৫৫০ কোটি টাকা খরচ করে গ্যাসলাইন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করেছে; কিন্তু গ্যাস–সংযোগ পাওয়া যায়নি। 

দুই কারখানার ঋণের বিপরীতে মাসে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা সুদ দিতে হচ্ছে উল্লেখ করে এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ২০ জুন বলেন, ‘এই বিনিয়োগ বিদেশি ঋণে হয়েছে। বিদেশি ঋণে তো আর রিশিডিউল (পুনঃ তফসিল) করা যায় না। সুদও মাফ পাওয়া যায় না। গ্যাস না পেলে কারখানা দুটি চালু করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলে মোট সাতটি কারখানায় ১৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা। সবকিছু থেমে আছে গ্যাসের অভাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সভায় ২০ জুন বিষয়টি তুলে ধরেছি।’ 

শুধু এমজিআই নয়, ছোট, মাঝারি ও বড় বেশ কিছু শিল্পগোষ্ঠী কারখানায় গ্যাস–সংযোগ না পেয়ে বিপাকে আছে। কেউ কেউ বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে গেছে। 

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসিসহ ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কাছে শিল্প সংযোগের ১ হাজার ৮০০টির বেশি আবেদন জমা আছে। এর মধ্যে ৫৫০টির মতো প্রতিষ্ঠান সব প্রক্রিয়া শেষ করে সংযোগের (প্রতিশ্রুত সংযোগ) অপেক্ষায় রয়েছে। মানে হলো, তারা গ্যাস-সংযোগের জন্য টাকাও জমা দিয়েছে; কিন্তু গ্যাস পাচ্ছে না। 

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী গত ২০ এপ্রিল কারখানায় গ্যাস–সংযোগ না পাওয়া নিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিবকে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি পাঁচটি কারখানার কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে দুটি এমজিআইয়ের। 

আশিক চৌধুরী বলেন, ‘গ্যাস–সংযোগ দিতে না পারলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান হবে না। ভবিষ্যতে দেশি–বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন।’ 

এমজিআইয়ের কারখানা দুটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে। ঢাকা থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায়। সেখানে বেসরকারিভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে এমজিআই। জমির পরিমাণ ৩৬১ একর।

1

ভাঙা রাস্তা দিয়ে কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ঢুকে দেখা যায়, দুটি কারখানার কাজ শেষ। এখন অন্য কারখানা ও স্থাপনা তৈরির কাজ চলছে। শ্রমিকদের আবাসনের জন্য ভবন নির্মাণও শেষ। দেখা গেল, বিদ্যুতের লাইন তৈরি আছে, গ্যাসের লাইন তৈরি আছে; কিন্তু সংযোগ নেই।

এমজিআইয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুতে যদি তাদের বলা হতো যে গ্যাস পাওয়া যাবে না, তাহলে বিপুল বিনিয়োগ করে কারখানা করতেন না। কাচের কারখানাটিতে তাদের বিনিয়োগ ২ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। সেটির নাম মেঘনা গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিডেট; আর রডের কারখানার নাম মেঘনা রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস লিমিটেড। বিনিয়োগ ৪ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। দুটি কারখানা করতে এমজিআই বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠীর সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) ঋণ নিয়েছে। 

এমজিআই দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর একটি। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এমজিআইয়ের বর্তমানে ৫৭টির বেশি কারখানা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ৬৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলে শুধু গ্যাস নয়, শিল্পের বিদ্যুৎ–সংযোগও পাওয়া যায়নি। আর রাস্তাটি মেরামতের জন্য সরকারকে একাধিকবার অনুরোধ করেছিল এমজিআই; তবে মেরামত হয়নি। 

এমজিআইয়ের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) সুমন চন্দ্র ভৌমিক বলেন, রাস্তাটি বড় করা এবং সংস্কারের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা; কিন্তু প্রকল্পটি তখন পাস হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারও অর্থাভাবে প্রকল্পটি অনুমোদন করেনি। তিনি বলেন, রাস্তাটি মেঘনা উপজেলার সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে সংযুক্ত করেছে। শিল্পকারখানা এবং সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তাটি খুবই জরুরি। 

এমজিআইয়ের মতোই দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর একটি সিটি গ্রুপ। এ গ্রুপের অধীনে ৪০টির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এতে কাজ করেন ১৫ হাজারের বেশি মানুষ। তবে শিল্পগোষ্ঠীটি এখন সংকটে রয়েছে।

সিটি গ্রুপ বলছে, তাদের সংকটে পড়ার কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো কারখানায় গ্যাস–সংযোগ না পাওয়া। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ১০৮ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত নিজেদের হোসেন্দি অর্থনৈতিক অঞ্চলে পাঁচটি শিল্পকারখানা গ্যাসের অভাবে চালু করতে পারছে না তারা। সিমেন্ট, চিনি, কাগজ, জাহাজ ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কারখানায় তাদের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ অলস পড়ে রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নিজেরা পাইপলাইন তৈরি করে দেওয়ার পরও সরকার গ্যাস দিতে পারেনি। গ্যাস পেলে কারখানাগুলো ২০২২ সালে চালু করা যেত। 

গাজীপুরের মাওনায় একটি বস্ত্র কারখানা করে বিপাকে পড়েছেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। তিনি বলেন, দুই বছর আগে গ্যাস–সংযোগের জন্য টাকা জমা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত গ্যাস–সংযোগ পাননি। ফলে কারখানাও চালু করা যাচ্ছে না।

এ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকা করে সুদ গুনতে হচ্ছে। কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে, তা জানি না। এ ক্ষতি আর টানতে পারছি না।’

গ্যাস–সংযোগ নিয়ে বেজার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর দেওয়া চিঠিতে সুইফট শিল্ড বাংলাদেশ লিমিটেড ও রিসাস কেমি বাংলাদেশ লিমিটেড নামে দুটি কারখানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কারখানা দুটি জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে। এর মধ্যে সুইফট শিল্ডে ১৫ কোটি টাকা এবং রিসাস কেমিতে ৯৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এ দুটি শিল্পকারখানায় গ্যাস–সংযোগ দিতে পারলে এক হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। 

আশিক চৌধুরীর চিঠিতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হেলথ কেয়ার লাইফ সায়েন্স লিমিটেডের কথাও বলা হয়েছে। এটি গ্যাস–সংযোগের অভাবে চালু হচ্ছে না। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এখন পর্যন্ত কোম্পানিটি সেখানে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। কারখানায় গ্যাস–সংযোগ দিতে পারলে সেখানে সাত হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। 

চট্টগ্রামে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কর্ণফুলী স্টিল মিলস নামের একটি কারখানা করেছে টি কে গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পাঁচ বছর ধরে তারা গ্যাসের অপেক্ষায়। 

বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ব্যাটারি কারখানা করেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের বিনিয়োগ প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। কারখানা চালু হলে প্রথম বছর দেড় হাজার এবং তিন বছরে পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে; কিন্তু গ্যাসের অভাবে কারখানাটি চালু করা যাচ্ছে না। 

বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান খান বলেন, ‘গ্যাস পেলেই আমরা কারখানা চালু করব; কিন্তু পাচ্ছি না। বিকল্প হিসেবে আমরা সিলিন্ডারে গ্যাস এনে আপাতত কারখানা চালুর চিন্তা করছি।’

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর  ১৭ মে সচিবালয়ে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে এক বৈঠক হয়। সেখানে শিল্পে গ্যাসের সংযোগের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়; কিন্তু বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বর্তমানে দেশে দিনে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যেখানে চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। শিল্প খাতে যাচ্ছে ১২০ কোটি ঘনফুটের বেশি। পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, প্রতিশ্রুত সংযোগগুলো দেওয়া হলে আরও ৩৫ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাসের প্রয়োজন হবে। 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু কিছু কারখানায় গ্যাস দেওয়ার বিষয়টি সরকারের চিন্তায় রয়েছে। তবে একই শিল্পগোষ্ঠীর সব কারখানা গ্যাস পাবে না; বরং সবাইকে কিছু কিছু গ্যাস দেওয়ার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। তিনি বলেন, সংকট কাটাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে জোর দেওয়া হয়েছে।’