• ই-পেপার

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৪ ‍জুলাই ২০২৬

যে দোয়া পাঠে রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যে দোয়া পাঠে রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়
সংগৃহীত ছবি

আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের জন্য রহমত লাভের যেসব উপায় রেখেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ  একটি হলো বেশি বেশি আল্লাহর জিকির ও দোয়া করা। তাই অনেক সময় অল্প কয়েকটি শব্দের একটি জিকিরও আল্লাহর কাছে এত প্রিয় হয় যে, এর মাধ্যমে বান্দার জন্য আল্লাহ রহমতের দরজা খুলে যায়। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন আমরা নবীজির (সা.) সঙ্গে নামাজ আদায় করছিলাম। এ সময় একজন সাহাবি বললেন,

اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবারু কাবিরা, ওয়ালহামদু লিল্লাহি কাছিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসিলা।

অর্থ : ‘আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, মহান। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য— অগণিত প্রশংসা। আর সকাল-সন্ধ্যায় আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।’

নামাজ শেষে মহানবী (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এই কথাগুলো কে বলেছে?’ সাহাবি নিজের পরিচয় দিলে তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি, এ কথাগুলোর কারণে তার জন্য আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।’

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর প্রশংসা, মহিমা ও পবিত্রতা বর্ণনা করা তাঁর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তাই শুধু বড় বড় আমলই নয়, আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতার সঙ্গে পাঠ করা ছোট ছোট জিকিরও আল্লাহর রহমত লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি তাঁর জিকির করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হাদিস : সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৬০১, সুনানে নাসায়ি, হাদিস নং : ৮৮৬।

চিকিৎসাসেবায় সাত নারী সাহাবির অসামান্য অবদান

ইসলামী জীবন ডেস্ক
চিকিৎসাসেবায় সাত নারী সাহাবির অসামান্য অবদান
সংগৃহীত ছবি

মানবসভ্যতার ইতিহাসে চিকিৎসাসেবা এক মহৎ ও সম্মানজনক পেশা। অসুস্থের সেবা, আহতের পরিচর্যা এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি একটি প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩২)

ইসলামের প্রাথমিক যুগে নারী সাহাবিরাও চিকিৎসা ও মানব সেবায় অনন্য অবদান রেখে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের সেবা, অসুস্থদের পরিচর্যা, খাদ্য ও পানি সরবরাহ—এসব ক্ষেত্রেই তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইসলামের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। এসব মহীয়সী নারীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—

১. রুফাইদা আল-আসলামিয়া (রা.) : তিনি এই মহীয়সী নারীদের অগ্রভাগে রয়েছেন। তাঁকে ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চিকিৎসা দক্ষতা, মানবিকতা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতার অপূর্ব সমন্বয় ছিল তাঁর মধ্যে। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সাহাবিদের চিকিৎসার জন্য তিনি একটি অস্থায়ী চিকিৎসা শিবির পরিচালনা করতেন। খন্দকের যুদ্ধে সা‘দ (রা.)-এর বাহুর শিরায় আঘাত লাগে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তাকে রুফাইদার তাঁবুতে নিয়ে যাও; তিনি আহতদের চিকিৎসা করতেন। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) তার খোঁজ নিতে এসে সন্ধ্যায় জিজ্ঞেস করতেন, সন্ধ্যা কেমন কাটল? এবং সকালে জিজ্ঞেস করতেন, আজ সকাল কেমন হলো? (আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ১১২৯)

রুফাইদা ছিলেন একজন নারী, যিনি আহতদের চিকিৎসা করতেন। তিনি নিজ উদ্যোগে মুসলিমদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন এবং আহতদের চিকিৎসা-পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করতেন। (আল ইসাবাহ : ৮/১৩৬, উসদুল গাবাহ : ৭/১১১, তারজামাহ : ৬৮২৫, ফাতহুল বারি : ৭/৬১৪)

এ ঘটনা রুফাইদা (রা.)-এর চিকিৎসা দক্ষতার প্রতি নববী স্বীকৃতির উজ্জ্বল প্রমাণ।

২. উম্মে আতিয়্যা আল-আনসারিয়া (রা.) : উম্মে আতিয়্যা আল-আনসারিয়া ছিলেন চিকিৎসাসেবায় আরেক অনন্য নাম। তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আমি সৈন্যদের পেছনে অবস্থান করতাম, তাদের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করতাম, আহতদের চিকিৎসা করতাম এবং অসুস্থদের সেবা করতাম।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮১২)

এই হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে চিকিৎসা ও সেবাব্যবস্থায় নারী সাহাবিদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

৩. উম্মে সুলাইম (রা.) : উম্মে সুলাইম (রা.)-এর জীবনেও আমরা একই চিত্র দেখতে পাই। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে পানি সরবরাহ করতেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতেন এবং জরুরি মুহূর্তে সাহসিকতার সঙ্গে সেবায় আত্মনিয়োগ করতেন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মে সুলাইম ও আনসারদের কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধে যেতেন, তাঁরা পানি পান করাতেন এবং আহতদের চিকিৎসা করতেন। (মুসলিম, হাদিস : ১৮১০)

৪. রুবাইয়্যি বিনতে মুআউয়িয (রা.) : হাদিসে এসেছে, রুবাইয়্যি বিনতে মুআউয়িয (রা.)-ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। রুবাইয়্যি বিনতে মুআউয়িয (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা (যুদ্ধের ময়দানে) নবী (সা.)-এর সঙ্গে থেকে লোকদের পানি পান করাতাম, আহতদের পরিচর্যা করতাম এবং নিহতদের মদিনায় পাঠাতাম।’ (বুখারি, হাদিস : ২৮৮২)

এ বর্ণনা যুদ্ধক্ষেত্রে নারী সাহাবিদের সেবামূলক ভূমিকার এক জীবন্ত চিত্র তুলে ধরে।

৫. নুসাইবা বিনতে কাব (রা.) : নুসাইবা বিনতে কা‘ব (রা.) শুধু বীর যোদ্ধাই ছিলেন না; যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সাহাবিদের পানি পৌঁছে দেওয়া, সেবাযত্ন করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার মহান দায়িত্বও পালন করেছেন। (আল ইসাবাহ : ৮/৩৩৪)
তাঁর জীবনে বীরত্ব ও মানবসেবার অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ করা যায়।

৬. উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) : উম্মুল মুমিনিন আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.) ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। ফিকহ, হাদিস ও শরিয়তে তাঁর গভীর প্রজ্ঞার পাশাপাশি চিকিৎসাবিদ্যায়ও তিনি বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। উরওয়া ইবন যুবাইর বলেন, ‘চিকিৎসাবিদ্যা, ফিকহ ও কবিতায় আমি আয়েশা (রা.)-এর চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে দেখিনি।’ (আল ইসাবাহ : ৮/২৩৩)

৭. হামনা বিনতে জাহশ (রা.) : হামনা বিনতে জাহশ (রা.) উহুদের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তৃষ্ণার্তদের পানি পান করাতেন এবং আহতদের সেবা করতেন। (আত তবাকাতুল কুবরা লি ইবনে সাদ : ৮/১৯১, তারজামাহ : ৪১৭৮)

তাঁর এই আত্মনিবেদন যুদ্ধকালীন মানবসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।এভাবে নারী সাহাবিদের জীবন আমাদের সামনে এক অনন্য আলোকবর্তিকা হয়ে আছে। তাঁরা শিখিয়েছেন পর্দা, শালীনতা ও তাকওয়ার সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখেও চিকিৎসা ও মানব সেবায় অসাধারণ অবদান রাখা সম্ভব।

তাই উল্লিখিত নারী সাহাবিদের জীবনী আজকের নারী চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

যে ৩ শ্রেণির মানুষের জন্য রাসুল (সা.) জান্নাতে একটি ঘরের জিম্মাদার হবেন

অনলাইন ডেস্ক
যে ৩ শ্রেণির মানুষের জন্য রাসুল (সা.) জান্নাতে একটি ঘরের জিম্মাদার হবেন
সংগৃহীত ছবি

ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী মুমিনের জন্য পরীক্ষার হলের মতো। পরকালে সফল হতে অবশ্যই এই পরীক্ষায় সফলকাম হতে হবে। এরপরই মিলবে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৭)

অপর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮২)

এজন্য দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে গুনাহ বা পাপ কাজ থেকে নিজেকে রক্ষার পাশাপাশি আল্লাহর হুকুম ও রাসুল (সা.) এর আদর্শ এবং তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ জরুরি। তাই পরকালে সফল হতে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে উম্মতদের যেমন নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন নবীজি (সা.), তেমনি বাতলে দিয়েছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথও। এর মধ্যে একটি হাদিসে মুমিনের তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা এসেছে, যার ফলে খোদ নবীজি (সা.) এই তিন বৈশিষ্ট্যের মানুষদের জন্য জান্নাতে একটি ঘরের জিম্মাদার হবেন।

আবু উমামা (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসটি হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া পরিহার করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের বেষ্টনীর মধ্যে একটি ঘরের জিম্মাদার; আর যে ব্যক্তি তামাশার ছলেও মিথ্যা বলে না, আমি তার জন্য জান্নাতের মাঝখানে একটি ঘরের জিম্মাদার; আর যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছে, আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত একটি ঘরের জিম্মাদার। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮০০)

স্ত্রীদের খুশি করতে মহানবী (সা.) যেসব বিষয়ে যত্নবান ছিলেন

মুফতি ওমর বিন নাছির
স্ত্রীদের খুশি করতে মহানবী (সা.) যেসব বিষয়ে যত্নবান ছিলেন
সংগৃহীত ছবি

পরিবার একটি সমাজের ভিত্তি, আর দাম্পত্য জীবন সেই ভিত্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও আন্তরিকতার ওপরই নির্ভর করে একটি পরিবারের সুখ-শান্তি। আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেক পরিবারে ভুল বোঝাবুঝি, মানসিক দূরত্ব ও সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা যায়। অথচ মহানবী (সা.) প্রায় দেড় হাজার বছর আগেই এমন এক আদর্শ দাম্পত্য জীবনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, যা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীদের কাছে তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৮৯৫)
এই একটি হাদিসই একজন আদর্শ স্বামীর পরিচয় তুলে ধরতে যথেষ্ট। তারপরও স্ত্রীদের মনরক্ষায় মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো। যদিও নিম্মুক্ত বিষয়গুলোতে বিশেষভাবে স্ত্রীদের কথা বলা হয়েছে। তবে সুখময় দাম্পত্য জীবনে উভয়কেই এসব বিষয়ে যত্নবান হতে হবে।    

১. স্ত্রীর কাজে সহযোগিতা করা
অনেকেই মনে করেন, ঘরের কাজ শুধু নারীর দায়িত্ব। কিন্তু মহানবী (সা.) নিজেই এই ধারণার বিপরীত শিক্ষা দিয়েছেন। রাষ্ট্র পরিচালনা, দাওয়াত, বিচার এবং ইবাদতের মতো অসংখ্য দায়িত্ব পালন করেও তিনি পরিবারের কাজে স্ত্রীদের সহযোগিতা করতেন। আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মহানবী (সা.) ঘরে কী করতেন? তিনি বলেন, ‘তিনি পরিবারের কাজকর্মে সাহায্য করতেন। আর নামাজের সময় হলে নামাজে চলে যেতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৭৬)
এ থেকেই বোঝা যায়, পরিবারের কাজে সহযোগিতা করা নববী সুন্নত।

২. স্ত্রীর প্রশংসা করা 
প্রশংসা মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি করে। মহানবী (সা.) তাঁর স্ত্রীদের গুণাবলির প্রশংসা করতেন এবং তাদের মর্যাদা তুলে ধরতেন। তিনি বলেন, ‘নারীদের মধ্যে মরিয়ম ও ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া পূর্ণতা অর্জন করেছেন। আর সকল নারীর ওপর আয়েশার মর্যাদা এমন, যেমন সব খাবারের ওপর সারীদের মর্যাদা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৪১১)
এ শিক্ষা দেয় যে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে মজবুত করতে আন্তরিক প্রশংসার বিকল্প নেই।

৩. স্ত্রীকে নিজের হাতে খাবার খাওয়ানো
ইসলামে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। স্ত্রীকে নিজের হাতে খাবার তুলে দেওয়াকে সওয়াবের কাজ বলা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে ব্যয় করবে, তার প্রতিদান পাবে; এমনকি স্ত্রীকে যে এক লোকমা খাবার মুখে তুলে দেবে, তারও সওয়াব পাবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬২৮)
তিনি স্ত্রীদের ব্যবহৃত পাত্র থেকেই পানি পান করতেন, যা ছিল গভীর ভালোবাসার এক অনন্য প্রকাশ।

৪. স্ত্রী ও সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া
দাম্পত্য জীবনে শুধু আর্থিক দায়িত্ব পালন করাই যথেষ্ট নয়; মানসিক উপস্থিতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। উকবা ইবনে আমির (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি মহানবী (সা.)-কে মুক্তির পথ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘তোমার জিহ্বাকে সংযত রাখো, তোমার ঘর যেন তোমার জন্য প্রশস্ত হয় (অর্থাৎ পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটাও) এবং নিজের গুনাহের জন্য কাঁদো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৪০৬)
আজকের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে এই শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

৫. ভালোবেসে সুন্দর নামে ডাকা
ভালোবাসার ভাষা কখনো কঠোর হতে পারে না। মহানবী (সা.) স্ত্রীদের আদর করে সুন্দর নামে ডাকতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) আমাকে কখনো ‘হুমাইরা’ (লালিমাময়) বলে সম্বোধন করতেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৭৪)
এতে দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও মানসিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।

৬. স্ত্রীর সঙ্গে ভালোবাসা ও রোমান্টিক আচরণ
মহানবী (সা.)-এর দাম্পত্য জীবন ছিল ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও সৌন্দর্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি যে স্থানে মুখ রেখে পানি পান করতাম, মহানবী (সা.) ঠিক সেই স্থানেই মুখ রেখে পানি পান করতেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩০০)
এসব ঘটনা প্রমাণ করে, ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা ও আন্তরিকতা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।

৭. স্ত্রীকে নিয়ে ভ্রমণে যাওয়া
দাম্পত্য সম্পর্কে নতুন প্রাণ সঞ্চার করতে একসঙ্গে সময় কাটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘সফরে যাওয়ার সময় মহানবী (সা.) স্ত্রীদের মধ্যে লটারির ব্যবস্থা করতেন; যার নাম উঠত, তাকেই সঙ্গে নিয়ে যেতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫৯৩)
এতে বোঝা যায়, স্ত্রীকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া সময়ের অপচয় নয়; বরং সম্পর্ককে গভীর করার একটি সুন্দর মাধ্যম।

৮. ভালোবাসার স্বাভাবিক প্রকাশ
ইসলাম কখনো স্বামী-স্ত্রীর বৈধ ভালোবাসাকে নিরুৎসাহিত করেনি। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘একবার মহানবী (সা.) তাঁর এক স্ত্রীকে চুম্বন করলেন, তারপর নামাজের জন্য বের হলেন; নতুন করে ওজু করলেন না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৫০২)
এ হাদিস প্রমাণ করে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার স্বাভাবিক প্রকাশ ইসলামের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয়।

আজকের পৃথিবীতে পারিবারিক অশান্তি, বিবাহবিচ্ছেদ এবং মানসিক দূরত্বের অন্যতম কারণ হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সময় ও ভালোবাসার অভাব। অথচ মহানবী (সা.)-এর জীবন আমাদের শেখায়—একজন আদর্শ স্বামী কখনো কর্তৃত্বপরায়ণ হন না; বরং তিনি হন সহযোগী, সহানুভূতিশীল, দয়ালু এবং ভালোবাসাপূর্ণ। তিনি স্ত্রীদের সম্মান দিয়েছেন, তাদের অনুভূতির মূল্য দিয়েছেন, পরিবারের কাজে অংশ নিয়েছেন, প্রশংসা করেছেন, সময় দিয়েছেন এবং ভালোবাসা প্রকাশে কখনো কুণ্ঠাবোধ করেননি। তাই সুখী, শান্তিময় ও বরকতময় দাম্পত্য জীবন গড়তে চাইলে আমাদের প্রত্যেকের উচিত মহানবী (সা.)-এর এই মহান আদর্শকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা। কারণ তাঁর দেখানো পথেই রয়েছে পারিবারিক শান্তি, পারস্পরিক ভালোবাসা এবং দুনিয়া-আখিরাতের প্রকৃত সফলতা।