• ই-পেপার

লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবীদের ফি আরো বাড়ানো হচ্ছে : আইনমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে রুল শুনানি ২৪ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে রুল শুনানি ২৪ জুন
সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সারোয়ারের আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি হবে আগামী ২৪ জুন। আজ রবিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ শুনানির দিন ধার্য করেন।

গত ১৬ জুন সারোয়ারের আলমগীরের প্রার্থিতাসংক্রান্ত রুল দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া ওই আসনে তার ভোটের ফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছে।  

প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানির পর ১৮ জানুয়ারি ইসি আপিল মঞ্জুর করে সারোয়ার আলমগীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পর দিনই হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। শুনানির পর ২৭ জানুয়ারি রুলসহ আদেশ দেন। সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে তাঁকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে ইসিকে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত।

রুলে জানতে চাওয়া হয়, সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন নুরুল আমিন; যা গত ৪ ফেব্রুারি মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। 

আদেশে বলা হয়, সারোয়ার আলমগীর যদি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তাঁর জন্য প্রযোজ্য) এসংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ নুরুল আমিনের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন। আদেশে স্থগিতাদেশ চলমান রেখে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। এই আদেশের পর রুলটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রাখা হয়।

গাড়ি বিক্রির নামে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রিমান্ডে আলোচিত বাসার

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাড়ি বিক্রির নামে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রিমান্ডে আলোচিত বাসার

গাড়ি বিক্রির নামে এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মির্জা আবুল বাসারকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২১ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন বাসারকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফীন ইসলাম ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে শনিবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকা থেকে বাসারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসায়ী মো. আজিজুল ইসলাম গাড়ির গ্যারেজ ও পুরোনো গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যাবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরে মির্জা আবুল বাসার তার কাছে একটি পুরোনো গাড়ি বিক্রির প্রস্তাব দেন। ২০২৫ সালের ৬ জুন গাড়ির অগ্রিম মূল্য হিসেবে আজিজুল ইসলামের কাছ থেকে নগদ এক কোটি টাকা নেন বাসার। এ সময় টাকার লেনদেনের ভিডিওচিত্রও সংরক্ষণ করা হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, টাকা গ্রহণের পরও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গাড়ি বুঝিয়ে দেননি বাসার। পরে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে গাড়ি দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরপর টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, পরে ৬ নভেম্বর একটি স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে এক মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বাসার। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি অভিযোগকারীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর আদালতে মামলা করার আবেদন করেন আজিজুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত গুলশান থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়।

হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন নামঞ্জুর
ফাইল ছবি

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় খোবাইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৭ম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পি এই আদেশ দেন। খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন ২০ বছর বয়সী তরুণ খোবাইব। যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের নিচে শান্তিপূর্ণ অবস্থানকালে মামলার আসামিদের নির্দেশ ও মদদে পুলিশ, র‍্যাব এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই খোবাইবের মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনার পর ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।

এর আগে, গত ১৭ মে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং কোনো ধরনের হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পৃথক পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে দফায় দফায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৩ মে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার রায় : ৫ জনের ফাঁসি ও ৫ জনের কারাদণ্ড

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার রায় : ৫ জনের ফাঁসি ও ৫ জনের কারাদণ্ড
ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার শাজাহানপুরে মুক্তিপণের দাবিতে আট বছরের শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপরাধের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় অপর পাঁচ আসামিকে শিশু আইন অনুযায়ী ১০ বছর করে কারাদণ্ড (আটকাদেশ) দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এবং শিশু আদালত-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. সেলিম ইসলাম, মো. মেহেদী হাসান, মো. রাজু মিয়া ওরফে পাঁচফুল ও মো. সাগর। এর মধ্যে সেলিম ইসলাম ও সাগর পলাতক রয়েছেন। বাকি তিনজন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অপহরণ ও আলামত গোপনের দায়ে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১০ বছর করে কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- মো. সজিব হাসান, মো. মফিজুল ইসলাম ওরফে বাচ্চু মিয়া, মো. জাহিদ হাসান, মো. বোরহান আলী ও মো. বায়েজীদ হোসেন। অপরাধের সময় তারা শিশু হলেও বর্তমানে তাদের বয়স ২৬ বছরের ওপরে। এ কারণে আদালত তাদের বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।  সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেকের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ভিন্ন ভিন্ন গ্রামে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে রিফাত হোসেনকে অপহরণ করেন আসামিরা। প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ এনামুলের কাছে এক লাখ টাকা ধার চেয়ে না পেয়ে এই অপহরণের পরিকল্পনা করেন। পরে মুক্তিপণ দাবি করা হলেও অপহরণের তিনদিন পর ১৮ জুলাই পোয়ালগাছা ব্রিজের নিচ থেকে রিফাতের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা এনামুল হক বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালীন মাসুদ রানা নামে এক আসামির মৃত্যু হওয়ায় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি ১০ আসামির মধ্যে ৯ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এদিকে, দীর্ঘ আট বছর পর কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়ে আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিফাতের স্বজনেরা। এসময় সন্তোষ প্রকাশ করে রিফাতের বাবা এনামুল হক বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এই রায়ে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতে যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত কার্যকর করা হয়। এই রায় যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে, যেন আর কোনো বাবা-মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আলী আসগর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এই রায় সমাজ ও দেশের জন্য একটি মাইলফলক। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছে। এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো এবং অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা যাবে।’