অভিজ্ঞতার জাল সনদ দিয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের পথ্য সরবরাহের কাজ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আদ্র এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কহিনুর ইসলাম।
কহিনুর ইসলামের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মনিহারি ও রোগীদের পথ্য সরবরাহের দরপত্র আহ্বান করা হয় গত ২৮ মে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য পূর্ব অভিজ্ঞতার সনদ দরপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার নির্দেশনা ছিল। গত ২ জুন ছিল দরপত্র জামা দেওয়ার শেষ দিন। দরপত্র জমা দেন অভিযোগকারী কহিনুর ইসলাম ও অভিযুক্ত আদ্র এন্টারপ্রাইজের ইসমাইল হোসেনসহ মোট চারজন। ইসমাইল হোসেনের প্রতিষ্ঠান আদ্র এন্টারপ্রাইজ ২৭ লাখ ৫৩ হাজার ৬০০ টাকা উল্লেখ করে দরপত্র জামা দেন। আর কহিনুর ইসলাম তাঁর দরপত্রে আদ্র এন্টারপ্রাইজের চেয়ে কমে ২৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮১২ টাকা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া আদ্র এন্টারপ্রাইজ যে অভিজ্ঞতার সনদ জমা দেয়, তা ছিল জাল।
অভিযোগে বলা হয়, আদ্র এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর। অথচ আদ্র এন্টারপ্রাইজ ২০২৩-২৪ সালে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদ্য সরবরাহ করেছে ওই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এমন একটি সনদ দাখিল করে, যা মূল্যায়ন কমিটি যাচাই না করেই তাদের মনোনীত করে চিঠি দেয়।
আদ্র এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন স্বীকার করে জানান, তিনি পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো দিন ঠিকাদারি করেননি। তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স তাঁর নামে হলেও সিংগাইর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজটি করার জন্য বন্ধু সিংগাইর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম ধার নিয়েছিলেন। তিনি কোন ধরনের ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।’ অন্যদিকে সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি ইসমাইল হোসেনই ভালো বলতে পারবেন।’
সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. রাফসান রেজা বলেন, মূল্যায়ন কমিটি দরপত্র যাচাই-বাছাই করে আদ্র এন্টারপ্রাইজকে মনোনীত করে চিঠি দিয়েছে। তবে এখনো ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ করা হয়নি। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে দরপত্রের শর্তানুযায়ী আদ্র এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে চুক্তি করা হবে না।